ত্রিশ বছর পর ফাঁসির আসামি হিসেবে কাটিয়ে আবার মুক্তজীবনে ফিরে এসেছেন। শুধু কি তাই? ৩০ বছর পর নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন তিনি।
আদালতের ভুল রায়ে গ্লেন ফোর্ড নামে ওই ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুসিয়ানার কারাগারে ৩০ বছর সাজা খেটেছেন। তার বর্তমান বয়স ৬৪ বছর।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এত সময় বিনাদোষে ফাঁসির জন্য অপেক্ষা করেছেন এমন ঘটনা বিরল। তবে ভুল রায়ের ঘটনা অনেকবারই ঘটেছে।
জানা যায়, লুসিয়ানা স্টেটের প্রসিকিউটর শ্রেফপোর্ট আদালতের বিচারককে জানান, ফোর্ডকে আর আটকে রাখা যায় না। এরপরই তাকে আদালত মুক্তির আদেশ দেন। এরপর সম্প্রতি মুক্তি পান ফোর্ড।
২০১৩ সালের শেষ দিকে লুইজিয়ানা স্টেট থেকে ফোর্ডের আইনজীবীকে জানানো হয়, একটি খুনের ঘটনায় চার খুনির অপর একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।
১৯৮৪ সালে আদালত গ্লেন ফোর্ডকে ফাঁসির আদেশ দেন। এর আগে এ বছরের নভেম্বরে ইসাডোর রোজম্যান নামে এক শ্বেতাঙ্গ ‘শ্রেফপোর্ট জুয়েলারি’ নামের একটি গয়নার দোকানের মালিক খুন হন। ফোর্ড মূলত গহনা আনা-নেয়ার কাজ করতেন। নিরাপত্তার জন্য মালিক তাকে পয়েন্ট ৩৮ বোরের একটি রিভলবার দেন।
রোজম্যান খুন হওয়ার পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তখন গ্লেন ফোর্ড আটক করে নিয়ে যায়। এরপর খুনিদের একজন হিসেবে বিবেচনা করে আদালত তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। এরপর দীর্ঘ ৩০ বছর কারাগারে ফাঁসির অপেক্ষায় সময় কাটাতে হয়েছে গ্লেন ফোর্ডের।
মুক্ত হওয়ার পর জেলগেটে স্থানীয় ডব্লিউএএফবি-টিভিকে জানান, ‘খুব ভালো লাগছে। আমার মন যা চায়, তাই করতে পারবো। আহ! খুব ভালো লাগছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে ভুল করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। এই কারণেই আমাকে ৩০ বছর জেলে কাটাতে হয়েছে। অথচ যে অপরাধ আমি করিনি, সেই অপরাধে আমাকে ফাঁসির দিন গুণতে হয়েছে।
হতাশার সুরে ফোর্ড বলেন, আমি এখন আর সেই সময় অর্থাৎ ৩৫, ৩৮ কিংবা ৪০ বছরে ফিরে যেতে পারবো না। শুধু তাই নয়, তখন যা করতে পারতাম, এখন আর তা করতে পারবো না!
১৯৮৪ সালের খুনের ঘটনায় লুসিয়ানা স্টেট কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীকে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়। এ ছাড়া ওই রিভলবারটি যে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে সেটিও প্রমাণ করতে পারেনি।
শেষমেশ, সাক্ষীদের আবার ডাকা হলে এক সাক্ষী মার্ভেলা ব্রাউন বলেন, ‘আমি আদালতকে মিথ্যা বলেছিলাম। আমি সবকিছুই মিথ্যা বলেছিলাম।’
মার্ভেলা ব্রাউন অন্য সন্দেহভাজন খুনির গার্লফ্রেন্ড ছিলেন। তাকে বাঁচাতেই তিনি গ্লেন ফোর্ডের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
গ্লেন ফোর্ডের ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার অসঙ্গতিকেই তুলে ধরেছে। সন্দেহ নেই যে, এ ঘটনা ফাঁসির আদেশদানকারী বিচারপতিদের অস্বস্তিতে ফেলবে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি সে দেশের মৃত্যুদণ্ড বিরোধী আন্দোলনকারীদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
গ্লেন ফোর্ড আফ্রিকা-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ। আর যিনি খুন হয়েছিলেন, তিনি ও জুরিরা শ্বেতাঙ্গ হওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন, গ্লেন ফোর্ড।
সূত্র: এএফপি
[b]ঢাকা, ১২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//  টিআই[/b]