পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খানকে ৬০ বছর আগে হত্যা করেছিল আমেরিকা। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রকাশিত গোপন নথিপত্র থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন কর্পোরেশনগুলোকে ইরানে তেলের চুক্তি পাইয়ে দেয়ার জন্য পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতর ব্যবহার করতে না দেয়ায় লিয়াকত আলীকে হত্যা করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে প্রকাশিত গোপন নথিপত্রের বরাত দিয়ে ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান টুডে এ খবর দিয়েছে।
লিয়াকত আলী খান বলেছিলেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্বকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দিবেন না। একই সঙ্গে বলেছিলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবেন না তিনি।
এ ছাড়া, পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলো খালি করে দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান লিয়াকত আলী খান। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নজরদারির জন্য এ সব ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল মার্কিনীরা।
কিন্তু খানের আহ্বানে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি এস ট্রুম্যান। লিয়াকত আলী খানকে এ জন্য ভয়াবহ পরিণতি বহন করতে হবে বলেও হুমকি দিয়েছিলেন ট্রুম্যান।
এরপরই লিয়াকত আলী খানকে হত্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এ জন উপযুক্ত ঘাতককে খুঁজতে থাকে তারা। পাকিস্তানে উপযুক্ত কোনো ঘাতক খুঁজে বের করতে পারে নি সিআইএ। সিআইএ সে সময় আফগানিস্তানে দিকে নজর দেয়।
আফগানিস্তানের বাদশাহ মোহাম্মদ জহির শাহ’এর সরকার সৈয়দ আকবর নামে এক ঘাতককে খুঁজে বের করে। ১৯৫১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির কোম্পানি বাগে ভাষণ দিতে দাঁড়ালে লিয়াকত আলী খানকে দু’টি গুলি করে আকবর।
৫৬ বছর বয়সি লিয়াকত আলী খানের বুকে লেগেছিল গুলি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে রক্ত দেয়া সত্ত্বেও বাঁচেন নি লিয়াকত আলী খান। আর ঘাতক আকবরকে তখুনি গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে যে বুলেট ব্যবহার করা হয়েছিল সে রকম বুলেট পদস্থ মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন। পাকিস্তানের বাজারে ও রকম বুলেট সাধারণ ভাবে পাওয়া যেত না বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। রেডিও তেহরান
ইআর





