দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় গীর্জা এবং বিলাসবহুল হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত আহত আছে প্রায় ৫ শতাধিক।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করে। সংবাদ মাধ্যমে দেশটি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে।

হামলায় মোট ৮টি বিস্ফোরণ ঘটে। যার মধ্যে ২টি আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযান চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণে নিহত হয় ৩ পুলিশ কর্মকর্তা।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা ১৯০ জন বলে জানায়। কিন্তু সরকারের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পর দেশটির পুলিশ বলছে, রাজধানী কলম্বোজুড়ে সিরিজ বোমা হামলায় ২০৭ জন নিহত ও আরো ৪৫০ জন আহত হয়েছেন।

ইস্টার সানডের সকালে কলম্বোর বিলাসবহুল সিনামুন গ্রান্ড, শাঙ্গরি-লা ও কিনসবুরি হোটেল ও কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি গীর্জা, নেগোমবোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গীর্জা ও বাত্তিকালোয়ার জিওন গীর্জায় ওই হামলা হয়। দেশটির পুলিশের প্রধান বলেছেন, তিনি এই হামলার ব্যাপারে ১০দিন আগেই সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

দেশটির প্রধান এবং প্রসিদ্ধ গীর্জাগুলো ইস্টার সানডের দিনে আক্রান্ত হতে পারে বলে ওই সতর্কবার্তায় জানান তিনি। রোববার সকাল ৮টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণের খবর আসে। সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে নিহতের সংখ্যা ততই লাফিয়ে বাড়ছে। দেশটির ইতিহাসে এই হামলাকে কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় সিভিল ওয়ার শেষ হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় হামলা। সেই যুদ্ধে কমপক্ষে ১ লক্ষ লোক নিহত হয়।

বিমানবন্দর থেকে বোমা উদ্ধার:

এদিকে শ্রীলংকায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার পর রোববার কলম্বোর বন্দরনায়েক বিমানবন্দর থেকে একটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিমানবন্দরটির প্রধান টার্মিনালের রাস্তায় পেতে রাখা পাইপ বোমাটি পরে বিমানবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা নিষ্ক্রিয় করেছেন। খবর এএফপির।

বিমানবাহিনীর মুখপাত্র গ্রুপ ক্যাপটেন জিহান সেনেভিরত্নে জানান, উদ্ধার করা বোমাটি হাতে তৈরি করা। ৬ ফুট লম্বা একটি পাইপের মধ্যে বিস্ফোরক বোঝাই করা ছিল।

জেড