সারা বিশ্বের বিভিন্ন বিমান কোম্পানিতে কর্মরত বেশির ভাগ এয়ারহোস্টেস বা বিমানবালা যাত্রী বা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহকর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়।

এয়ারহেস্টেস হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুন্দরী মেয়েদের বাছাই করা হয় বলে এ ঘটনা দিনে দিনে বেড়ে চলছে।

ভয়াবহ তথ্যটি উঠে এসেছে হংকংভিত্তিক সংস্থা ইক্যুয়াল অপারচুনিটিজ কমিশনের (ইওসি) এক জরিপে।

২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এয়ারহোস্টেসদের (নারী ও পুরুষ) মধ্যে ৯ হাজার প্রশ্নপত্র বিলি করা হয়। এর মধ্যে ৩৯২ জনের উত্তর পাওয়া যায়।

মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ নারী এবং বাকি ১৪ শতাংশ পুরুষ উত্তর পাঠিয়েছিলেন। যাত্রীদের সবচেয়ে বিরক্তিকর ২০টি অভিজ্ঞতার বর্ণনা উঠে এসেছে ওই জরিপে।

দেখা যায়, মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৭ ভাগ গত ১২ মাসে কর্তব্য পালনকালে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

ক্যাথি প্যাসিফিক, ড্রাগনএয়ার, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের বিমানবালা ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে ওই প্রশ্নপত্রগুলো বিলি করা হয়েছিল।

ইওসি এর মুখপাত্র মারিয়ানা ল মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, প্রধানত দুটো কারণে তারা কম উত্তর পেয়েছেন।

প্রথমত বেশিরভাগ বিমানবালাই হংকংয়ের।আর হংকংয়ের বিমানবালাদের কাছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যৌণ হয়রানি তেমন প্রভাব ফেলে না কারন তাদের দেশে এসব খোলাখুলি ভাবেই হয়।

আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, যৌন হয়রানি একটি স্পর্শকাতর ইস্যু এবং এ কারণে বেশিরভাগই মুখ খুলতে চায়নি। তবে যতটকু জবাব পাওয়া গেছে তা একটি ভয়ানক অংশের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

হয়রানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পিঠ চাপড়ানো, শরীরের বিভিন্ন অংশ স্পর্শ করা, চুম্বন করা ও চিমটি কাটা। আরো আছে অশ্লীল কৌতুক করা, কামুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, অশ্লীল ছবি প্রদর্শন অথবা যৌন কাজের আবেদন।

জরিপে বলা হয়, প্রায় ৫৯ ভাগ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন যাত্রীদের কাছ থেকে এবং ৪১ ভাগ সহকর্মীদের দ্বারা। সহকর্মীদের মধ্যে আছেন সিনিয়ররা এবং এমনকি ককপিটের পাইলট সদস্যরাও।

 

ইআর