পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলে হামলার ঘটনার পর দেশটিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল দেশটির সরকার।
বুধবার পেশোয়ারের গভর্নর হাউসে প্রেসিডেন্ট নওয়াজ শরিফের সভাপতিত্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
এর ফলে ছয় বছর ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর চলে আসা নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করলো পাকিস্তান।
পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র মহিউদ্দিন বাওয়ানি বলেন, “সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।”
মঙ্গলবার ৯ জন ব্যক্তি সামরিক পোশাকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে ঢুকে হামলা চালায়। এতে স্কুলটির ১৩২ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৪১ জন নিহত হয়। এই হামলায় আরো ১২১ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান বলেছে, সেনা অভিযানে কয়েক হাজার তালেবান সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা।
জঙ্গি হামলার পর পেশোয়ারে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তিনি জঙ্গি দমনে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যত শিশুর রক্ত ঝরেছে, তার প্রতিটি ফোঁটার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। জঙ্গি দমনে করণীয় ঠিক করতেই বুধবারের এই সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান করা হয়। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর নেতারা এ বৈঠকে অংশ নেন।
পাকিস্তানের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ২০০৮ সালে আসিফ আলী জারদারির সময়ে ফাঁসি কার্যকরের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আসে। তার মেয়াদ গতবছর জুলাই মাসে শেষ হয়ে গেলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার আহ্বানে নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ সরকারও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদপূর্তির পর পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সুক্কুর শহরে নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-জাংভির দুই সদস্যের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নেয়া হলেও নওয়াজের নিষেধাজ্ঞা বহালের সিদ্ধান্তে সে সময় তা আটকে যায়।
সরকার কোন তালেবান সদস্যের ফাঁসি কার্যকর করলে তা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বিবেচনা করা হবে বলেও সে সময় হুমকি দিয়েছিল দলটি। গত ছয় বছরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত আট হাজার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি।-রয়টার্স।
জেডআই





