নিত্যপণ্যের দাম বাড়া ও বেকারত্বের প্রতিবাদে ইরানে চলমান সহিংস আন্দোলনকে কয়েকটি বিদেশী রাষ্ট্রের “প্রক্সি যুদ্ধ (Proxy War)” বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি।
ইরানের এই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ (Supreme National Security Council -SNSC)- এর সেক্রেটারি শামখানি (Ali Shamkhani) সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে সম্প্রতি শুরু হওয়া সহিংসতার নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের হাত রয়েছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারণা ও হ্যাসট্যাগসহ চলমান আন্দোলনকে সহিংস রুপ দেয়ার ক্ষেত্রে এই দেশগুলো নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
আলী শামখানি দাবি করেন, তাদের বিশ্লেষণে এটা বেরিয়ে এসেছে যে সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যতগুলো হ্যাশট্যাগ (Hashtags) দেয়া হয়েছে তার ২৭ শতাংশই সৌদি সরকারের মদদে করা হয়েছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিদেশী-মদদপুষ্ট এই হস্তক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের এই অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা।
তিনি দাবি করেন, ইরানে এখন যা ঘটছে তা কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই।
উল্লেখ্য, নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর (২০১৭) থেকে ইরানের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ শুরু করে বিভিন্ন গ্রুপ। বিক্ষোভ পরিস্থিতি দ্রুতই সহিংস রুপ ধারণ করে।
সবশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী এ পর্যন্ত সহিংস বিক্ষোভে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন আরো অনেকে। সহিংসতা ঠেকাতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এ যাবত চার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
এদিকে, চলমান সহিংস আন্দোলনের ব্যাপারে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি (Hassan Rouhani) বলেছেন, অল্প কিছু দাঙ্গাকারী ও আইন ভঙ্গকারীর মোকাবেলা ইরানের জনগণ করবে।
তবে, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এবং নাগরিকত্ব আইন মেনে যে কারো মতামত প্রকাশ ও বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুহানি।
কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বাড়া ও অর্থনৈতিক সংকটের অজুহাত তুলে কিছু বিপথগামী মানুষ ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের গুরত্ব ও মর্যাদাকে হেয় করে যে সহিংসতা শুরু করেছে তা মোকাবেলার সক্ষমতা দেশের মানুষের রয়েছে বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি।
কেবি





