জাতিসংঘ বৃহস্পতিবার ইসলামী স্টেট জিহাদী গোষ্ঠীর বেশ কিছু নৃশংসতার বিবরণ তুলে ধরে তৈরি এক প্রতিবেদনে বলেছে, আইএস ইরাকে সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়কে নির্মূল করার চেষ্টা করতে গিয়ে সম্ভবত গণহত্যা চালিয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতর এক বিবৃতিতে বলেছে, আইএস ‘হয়তো তিনটি জঘন্যতম আন্তর্জাতিক অপরাধ যথা যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার সব ক’টিই সংঘটন করেছে।’
সংস্থা এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব ও শিশু সৈনিক ব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে এক মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সংস্থা বলেছে, এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং কয়েকটি ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর শামিল হতে পারে।
২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরাকে একশ’ জন প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইএস-এর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইয়াজিদি, ক্রিস্টান, তুর্কমেন, কুর্দি ও শিয়াসহ জাতিসগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আইএস-এর নৃশংস হামলার বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, আইএস গত বছরের আগস্টে সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর যে আক্রমণ চালায়, তার উদ্দেশ্য ছিল একটি গোষ্ঠী হিসেবে তাদের ধ্বংস করে ফেলা। এ থেকে জোরালোভাবে প্রতীয়মান হয় যে আইএস গণহত্যার অপরাধে অপরাধী।
ইরাকি সরকারের অনুরোধে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু কিছু গ্রাম সম্পূর্ণভাবে ইয়াজিদি জনসংখ্যাবিহীন হয়ে গেছে।
অনেক ইয়াজিদি নারীকে হয় যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে নয়তো আইএস সদস্যদের উপহার দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরে আইএস বিরোধী সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও সরকারপন্থী বাহিনীগুলোও বিচার বহির্ভূত হত্যা নির্যাতন, অপহরণ এবং বিপুল সংখ্যক লোককে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এরাও হয়তো ‘যুদ্ধাপরাধ’ করেছে।
এমএ





