রাস্তায় পাথর ফেলে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য ব্যারিকেড। কিছু দূর পরপরই বসানো হয়েছে চেকপয়েন্ট। অত্যাধুনিক রাইফেল হাতে এসব চেকপয়েন্টেই চলছে দিনরাত টহল। আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাত। বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে আসা তালেবানের গুরুত্বপূর্ণ টার্গেটে পরিণত হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরটি। কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই এর অধিবাসীরা। প্রিয় শহরের সুরক্ষায় আফগান বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে তারাও। শুধু তাই নয়, জীবন দিয়ে হলেও শহর রক্ষা করবে বলে শপথ নিয়েছে তারা।
আলজাজিরার প্রতিবেদন মতে, চলতি মাসের শুরুতে প্রাদেশিক রাজধানী হেরাত থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরে জিন্দাজান শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান যোদ্ধারা। এরপরই দখল করে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ক্রসিং ইসলাম কালা। এখন তাদের টার্গেট হেরাত দখল। তালেবানের এই বিস্ময়কর অগ্রগতিতে ভীতসন্ত্রস্ত দিন পার করছে এর চার লাখ বাসিন্দা। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতেও শুরু করেছে অনেকেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যে কোনো দিন তালেবানরা হেরাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাসিন্দারা বাজারে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে।
এই মুহূর্তে হেরাতের ১২টির বেশি জেলায় তালেবানের বড় ধরনের উপস্থিতি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় অধিবাসীরা। হারানো জেলাগুলোর পুনরুদ্ধারে তালেবানের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আফগান বাহিনী। শুক্রবার কারুখ নামের একটি জেলা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তারা। চারপাশে তালেবানের উপস্থিতির ফলে এখন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে হেরাত শহর।
তা সত্ত্বেও তালেবানরা যাতে শহরে ঢুকতে না পারে সেজন্য আফগান বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া বাহিনী। কয়েক হাজার সদস্যের এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন গৃহযুদ্ধের সময়ের মুজাহিদিন কমান্ডার ইসমাইল খান। মূলত তার নেতৃত্বে শহরের রাস্তায় রাস্তায় অসংখ্য চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। রাস্তার মাঝে পাথর ফেলে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড। তালেবান বা অন্য কেউ যাতে গাড়ি হামলা চালাতে না পারে সেজন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একে-৪৭ ও অন্যান্য অত্যাধুনিক রাইফেল হাতে রাস্তায় রাতদিন টহল দিচ্ছে মাথায় পাগড়ি আর পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা শতশত মিলিশিয়া সদস্য। সংবাদমাধ্যম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের এই টহলের ছবি। এসব যোদ্ধারা বলছেন, দরকার হলে তারা মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। তারপরও তালেবানকে কোনোভাবেই হেরাত শহরের দখল নিতে দেবে না।
মার্কিন বাহিনীসহ সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার ঘোষণার পরই আফগানিস্তানের শতকরা ৯০ ভাগ সীমান্ত দখলের দাবি করেছে তালেবানরা। দেশের ৪০০টি জেলার ২১৫টিই এখন গোষ্ঠীটির দখলে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তালেবান যোদ্ধাদের হাতে বিভিন্ন শহরের পতন ঠেকাতে শনিবার থেকে দেশটির ৩১ টি প্রদেশে কারফিউ জারি করেছে সরকার। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। শুধু রাজধানী কাবুল এবং দুটি প্রদেশিক শহর নানগরহর ও পাঞ্জশির এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে।
এবিএস





