কলম্বিয়া সরকার ও দেশটির ফার্ক গেরিলাদের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সই করতে বুলেট-কলম ব্যবহৃত হয়েছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে কার্যত দেশটিতে গত ৫২ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়েছে।

এখন থেকে আর পরস্পরকে ঘায়েল করার জন্য বুলেট ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি প্রকাশের জন্য এ অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছে দু’পক্ষ।

ক্যারিবিয়ান শহর কার্টাজেনায় সোমবার এ চুক্তিতে সই করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল স্যান্তোস ও বিদ্রোহী নেতা তিমোলিওন জিমেনেজ। শান্তি চুক্তি সই করার পর প্রেসিডেন্ট স্যান্তোস বিদ্রোহীদের বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি।’

বুলেট দিয়ে তৈরি কলম ব্যবহার করার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একথা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, আজ থেকে কলম্বিয়া বুলেটের দেশ থেকে ‘শিক্ষা ও ভবিষ্যতের’ দেশে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট স্যান্তোস বলেন, অতীতে বুলেট আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করত এখন থেকে শিক্ষা আমাদের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।


চুক্তি সইয়ের পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল স্যান্তোস (বামে) ও বিদ্রোহী নেতা তিমোলিওন জিমেনেজ

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোসহ ল্যাতিন আমেরিকার আরো কয়েকজন নেতা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিদ্রোহী নেতা তিমোলিওন জিমেনেজ তার গোষ্ঠীর বিদ্রোহ চলার সময়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চান।

আগামী রোববার এ শান্তিচুক্তির ওপর কলম্বিয়ায় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে ভোটে বেশিরভাগ মানুষ এ চুক্তির পক্ষে রায় দিলেই কেবল তা বাস্তবায়িত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘন্টা আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি ঘোষণা করেন, তার সংগঠন ফার্ক গেরিলা গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে।

কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্কের প্রায় ৭,০০০ যোদ্ধা রয়েছে। ১৯৬৪ সাল থেকে এই গোষ্ঠী বোগোটা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। দু’পক্ষের মধ্যে গত ৫২ বছরের যুদ্ধে অন্তত ২,২০,০০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া, আরো ৪৫,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

সূত্র: পার্সটুডে

এম এ