নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্ব বোরনো রাজ্যে সন্দেহভাজন বোকো হারাম সদস্যদের তিনটি পৃথক হামলায় ছয় কলেজ শিক্ষকসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হত্যাকাণ্ডগুলো ডিকওয়া, কালা-বাল্জ শহর ও রাজ্যের ডালওয়া গ্রামের কাছাকাছি  ইসলামি সম্প্রদায়ের ঘাঁটিতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সংঘটিত হয়েছে।
বাসিন্দারা বলেন, বরনো রাজ্যের প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ডিকওয়ায় বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার সকালে একটি কলেজে বোমা বিস্ফোরণ করে। এতে ছয় শিক্ষক এবং দুই নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হয়। এবং বিদ্রোহকারীরা অনির্দিষ্টসংখ্যক নারীদের অপহরণ করে।
মদু কাকারিমি নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ডিকওয়া থেকে মাইদগুড়ি যাওয়ার সময় গুলির শব্দ শুনে তিনি এবং অন্যান্যরা দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যান।
কাকারামি আরো বলেন, "আমরা আবাসিক বিদ্যালয় (কলেজ) –এ আগুন দেখে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। আমরা আমাদের স্ত্রী-পরিজন ও বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাই। পরে আমরা ঘটনাস্থলে আটটি লাশ দেখতে পাই।”
বোরনো রাজ্যের সিনেটর আহমেদ জান্না ডিকওয়ার হত্যাকাণ্ডের ব্যপারে বিস্তারিতভাবে কিছু না জানিয়ে সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
"মধ্যরাতে বিদ্রোহীরা শহরের একটি স্কুল দখল করে ... তারা স্কুলটির লাইব্রেরি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে রাতেই ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়" বলেন তিনি।
কিছু স্থানীয় কর্মকর্তারা তাদের পরিচয় গোপন করার শর্তে জানায়, বিদ্রোহীদের একটি গ্রুপ কালা-বালজ শহরে আক্রমণ করে তিনজনকে হত্যা এবং অনেক ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
একজন পথিক মুস্তফা আলী জানান, গতকাল সন্দেহভাজন ইসলামপন্থীরা ডালওয়া গ্রামের কাছাকাছি মাইদুগুরি-বিউ সড়ক অবরোধ করে এবং আটজন যাত্রীকে গুলি করে হত্যা করে।
আলী আরো বলেন, বিদ্রোহীরা দিবালোকে মহাসড়কে বোমা বিস্ফোরণ করে।
নিরাপত্তা সংস্থা আক্রমণের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি কিন্তু একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিচয় গোপন করার দাবি করে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, "রাজ্যে সম্প্রতি একাধিক আক্রমণ হয়েছে ... যা খুবই দঃখজনক।"
এই অঞ্চলে সহিংসতা দিনদিন বেড়েই চলেছে এবং এখানে সহিংসতায় এই বছর এখন পর্যন্ত ১৫০০জন নিহত হয়েছে।  সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
[b]ঢাকা, ১২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]