নির্বাচনের আগে ভারতের প্রতি ইঞ্চি ভূমি রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকার কথা বললেও বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরে দৃশ্যত মরিয়া হয়ে উঠেছেন নরেন্দ্র মোদী।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের সময় স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরে সই হওয়া প্রটোকলটি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে বিরোধিতা করেছিল মোদীর দল বিজেপি। সঙ্গে ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।

এখন সেই বিজেপিই সংশোধনী বিলটি পাসে পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই বিরোধিতাকারীদের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় উদ্যোগী হয়েছে। আর এরই মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে দিয়েছেন মমতা।

ইউপিএ সরকারের সময় বিলটির বিরোধিতা করে আন্দোলন-বিক্ষোভ করা বিজেপির আসাম ইউনিটও এবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে নেমেছে।  ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন ইউপিএ জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে স্থল সীমান্ত চুক্তির ওই প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।

সীমান্ত চুক্তির সমর্থনে আসামের তেজপুর আসনের বিজেপি এমপি আর পি শর্মা বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর করা গেলে আমরা সেখান থেকে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সক্ষম হব।”

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কাছ থেকে দুটি চা বাগানসহ ২৩১ একর ভূমি পাবে আসাম। বিপরীতে বাংলাদেশ পাবে ২৬৮ একর ভূমি, জানান শর্মা।

যদিও ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি সরকার ভূমি বিনিময়ে আসামের জনগণের মনোভাব বদলানোর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। 

এমনকি সম্প্রতি রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলার পরও কেন্দ্রের উদ্যোগে রাজ্যটিতে বিক্ষোভ প্রকট হয়।  

রাজ্যের অন্যতম ছাত্রসংগঠন ‘অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (এএএসইউ) নেতা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেন, “নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশকে এক ইঞ্চি ভূমিও ছাড় দেবেন না বলেছিলেন, সরকারে আসার পর তিনিই এখন সুর পাল্টেছেন এবং ভূমি বিনিময় চুক্তি কার্যকরের চেষ্টা করছেন।”

কিন্তু বিজেপির এমপি আর পি শর্মা এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানান, এএএসইউর একাংশ আসাম গণ পরিষদ (এজিপি) এর আগে দুই দফায় রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় থাকলেও বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারেনি। “অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং অনুপ্রবেশ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় থাকলেও তারা কিছুই করতে পারেনি।”

এএএসইউর অভিবাসী বিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৮৫ সালে প্রথম আসামে সরকার গঠন করে এজিপি। এরপর ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসে দলটি।

বিজেপি বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যদি চুক্তিটি কার্যকরই হবে, তাহলে কেন বিজেপি প্রথমে প্রটোকলের বিরোধিতা করেছিল? বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন আসামের ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টও (এআইইউডিএফ) চুক্তির বিরোধিতায় নেমেছে। দলের দুই এমপিকে নিয়ে আজমল সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করে চুক্তির বিপক্ষে তাদের অবস্থান জানান।

স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরে ভারতের সংবিধান সংশোধনের বিল এই পার্লামেন্টে এখনও

বিজেপি নেতা শর্মা বক্তব্য হচ্ছে, “বদরুদ্দিন আজমলও চুক্তির ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠেয় আসামের অ্যাসেম্বলি নির্বাচনের আগে সুবিধা পেতে চাচ্ছেন।”

তবে গণমাধ্যমের খবর, সুষমা স্বরাজ আজমলের প্রতিনিধি দলকে স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরে সংবিধান সংশোধন বিল পার্লামেন্টে তোলার ব্যাপারে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির কথা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।

সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরে তার সরকারের জোর প্রচেষ্টার কথা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এরপরই বিষয়টিতে গতি আসে।

দেশটির গত সরকারের সময় বিলটি রাজ্যসভা ঘুরে পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটিতে গিয়ে আটকে ছিল। সম্প্রতি কমিটি পার্লামেন্টে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এখন বিলটি প্রথমে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তোলা হবে। সেখানে পাসের এটি যাবে নিম্নকক্ষ লোকসভায়।

জেআই