ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেন্সকির সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে বলেছেন, যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তে দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

গত ০৮ জানুয়ারি (বুধবার) ভোররাতে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের ইমাম খোমেনি (র:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় বিমানটির ১৭৬ আরোহীর সবাই প্রাণ হারান।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী গতকাল (১১ জানুয়ারি) শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মনে করে ভুলবশতঃ যাত্রীবাহী বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার কারণে এটি ভূপাতিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি শনিবার (১১ জানুয়ারি) দ্বিতীয়দিনের মতো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকিকে টেলিফোন করেন।

তিনি বলেন, মানবীয় ত্রুটির কারণে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করা হবে।

হাসান রুহানি বলেন, ইউক্রেন থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে পৌঁছালে দু’দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথ তদন্ত চালাবেন এবং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তও চালানো হবে।

এই বেদনাদায়ক ঘটনার জন্য অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি মেনে চলবে।

টেলিফোলাপে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দায় স্বীকারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই স্পর্শকাতর সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হচ্ছে তা প্রশংসনীয়।

তিনি এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং যত শিগগির সম্ভব নিহত ইউক্রেনের নাগরিকদের লাশ দেশটিতে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন।

এমবি