চীনের সেনাবাহিনীকে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আরও বেশি অনুগত ও বাধ্য হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে ও কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি)'র প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত হওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
এক দলের দেশ চীনে কমিউনিস্ট পার্টিই সব ক্ষমতার উৎস। এরপরও কেন হঠাৎ করে এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হলো তা স্পষ্ট নয়। তবে, নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন নতুন টার্গেট ও মিশনে সফল হওয়ার জন্যই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নতুন টার্গেট ও মিশন বলতে কী বুঝানো হয়েছে তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
তবে, ভারতের গণমাধ্যমগুলো এই চীনা প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশনাকে আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি বলে ফলাও করে প্রচার করছে। মঙ্গলবার সকালে ভারতের নেতৃস্থানীয় প্রায় সব গণমাধ্যমের প্রধান সংবাদ করা হয়েছে এটিকে। সংবাদের শিরোনামও করা হয়েছে এরকম 'আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত হতে বললেন চীনা প্রেসিডেন্ট।'
চীনা প্রেসিডেন্ট রোববার সেনাবাহিনীর (যা পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ নামে পরিচিত) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে এসব নির্দেশনা দেন।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি নির্দেশনায় বলেন, "পিপলস লিবারেশন আর্মির সদর দফতরকে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি একচ্ছত্র অনুগত ও বিশ্বস্ত হওয়ার জন্য আমি আদেশ জারি করছি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত এবং চেইন অব কমান্ড যেন সুষ্ঠুভাবে পালন করা হয় এর নিশ্চয়তা চাচ্ছি।" উল্লেখ্য, চীনের প্রেসিডেন্ট পদাধিকার বলে দেশটির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি)'র চেয়ারম্যান এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি)'র সাধারণ সম্পাদক।
তিনি আরও বলেন, "পিপলস লিবারেশন আর্মির সদর দফতরগুলোকে যুদ্ধ প্রস্তুতি রাখতে এবং তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আঞ্চলিক যুদ্ধে জয়ী হতে তাদের সক্ষমতাকে আরও তীক্ষ্ম করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি।" আঞ্চলিক যুদ্ধ বলতে তিনি ভারত ও জাপানের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মাত্র গত সপ্তাহেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি তিন দিনের ভারত সফর করে গেছেন। কিন্তু দেশে ফিরেই তার এ সামরিক প্রস্তুতির ব্যাপারে এত জোর নির্দেশ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদেরকে নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে।
তিনি যখন এ নির্দেশনা দিচ্ছেন তখন ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেছে চীনা সেনাবাহিনী। বিতর্কিত সীমান্ত লাদাখের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ছুমুর এলাকায় অনুপ্রবেশ করে অন্তত ৭টি তাঁবু স্থাপন করেছে চীনা সেনাবাহিনী। উল্লেখ্য, চীন এই ভূখন্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে, চীনের এই অনুপ্রবেশের ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে কোন পাল্টা প্রস্তুতি দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, দেং জিয়াওপিংয়ের পর শি জিনপিংয়ই হলেন সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি নিজের কব্জায় নিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক রদবদল করেছেন। তার প্রতি অনুগতদেরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। অনেক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত ও বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





