তুরস্কের সরকারগত জুলাইয়ে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর থেকে জরুরি অবস্থা বহাল রাখার পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, প্রচারমাধ্যমসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান চলছে। আরও অন্তত ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে এবং বেশ কয়েকটি সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।
সরকার গত শুক্রবার সর্বশেষ গেজেট প্রকাশ করে জানায়, পুলিশের ২ হাজার ৬৮৭ জন সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁদের ৫৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এ ছাড়া বিচার মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৬৯৯ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আটজন কাউন্সিল অব স্টেটের সদস্য, একজন সুপ্রিম ইলেকটোরাল কাউন্সিলের সদস্য। ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৩৮ কর্মী এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের শতাধিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। পাশাপাশি ৬৩১ জন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। জরুরি অবস্থার অধীনে এসব চাকরিচ্যুতির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভ্যুত্থানচেষ্টার পরপরই দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি হয়।
তুরস্কের সরকার এক ফরমান জারি করে অন্তত ৮০টি সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তাঁদের কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান চাকরিচ্যুতি ও ধরপাকড় অভিযানে কেবল প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরোধীরাই বলি হচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম নেতা ফেতুল্লা গুলেন অভ্যুত্থানচেষ্টায় ইন্ধন দিয়েছেন। গুলেন অবশ্য এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।
তুরস্ক দাবি করছে, বর্তমান জরুরি অবস্থা ও কঠোর অভিযানের মাধ্যমে দেশকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গি এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) বিদ্রোহীদের আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখা যাবে।
নাজিব





