আজ ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায়। দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে টানা এই মামলার শুনানি হওয়ার পর আজ এই মামলার রায়দান দেবেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। রায়ের পরই আগামী সপ্তাহেই অবসর নেবেন ভারতের বর্তমান প্রধান এই বিচারপতি।

ইতিমধ্যেই তিনি রায় পড়তে শুরু করেছেন। গোটা রায় পড়তে আধ ঘণ্টা সময় লাগবে। এই অযোধ্যা মামলায় সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছেন অন্য পাঁচ বিচারপতি। তাঁরা কেউ এর বিরোধিতা করেননি।

রায় পড়তে পড়তে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মসজিদ কবে তৈরি হয়েছিল, তাতে কিছু যায় আসে না। কারোর আস্থা অন্যের অধিকারকে যেন হরণ না করে।

তিনি অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত ও বহু আলোচিত মামলার নিষ্পত্তি করে দিতে চান, সে ঘোষণা আগেই করেছিলেন বিচারপতি গগৈ।

অবশেষে আজ শনিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এ রায় দিয়েই অবসরে চলে যাবেন প্রধান বিচারপতি।

মামলার ৭০ বছর পর ভারতের অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি ওই মসজিদের জমির মালিক কারা সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে যাচ্ছেন দেশটির সুপ্রীম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।

১৯৯২ সালে কট্টরপন্থী মৌলবাদী হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার পর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় কমবেশি ২০০০ লোক নিহত হয়েছিল।

এ কারণে রায় ঘোষণার মাসখানেক আগে থেকেই অযোধ্যা শহরে ১৪৪ জারি রয়েছে। এমনিতেই বিতর্কিত জমিটির কাছাকাছি যাওয়া যায় না সহজে। চারদিকে লোহার বেড়া আছে।

২৪ ঘণ্টা সেটিকে ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক'শ সদস্য। আর এখন হাজার হাজার বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে অযোধ্যায়।

বাবরি মসজিদ মামলার রায়কে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, তার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা হচ্ছে অযোধ্যা শহর সহ উত্তরপ্রদেশ জুড়ে।

রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ কয়েকদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া নজর রাখা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমেও যাতে কেউ গুজব ছড়াতে না পারে। লাখনৌ আর জেলা সদরগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

এএস