ফিলিস্তিন ইস্যুতে সবসময় সোচ্চার ছিলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসি। ফিলিস্তিনের প্রতি ভিন্ন রকম টান ছিল তার। তাই মুরসির মুত্যুতে স্বভাবতই ফিলিস্তিনবাসী বেশি শোকাহত।
গাজাবাসীর সাপ্তাহিক কর্মসূচি ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনে এবার মুরসির বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে। মাতৃভূমিতে ফেরার অধিকার দাবিতে চলা সাপ্তাহিক এ কর্মসূচিতে মুরসির প্ল্যাকার্ড বহন করেন গাজাবাসী। ফিলিস্তিনের গাজা আল-আন অনলাইনের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ইসরাইলের দেয়া কাটাতারের বেড়ায় মুরসির ছবি সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়, যাতে লেখা ছিলো, ‘গাজাবাসীর সঙ্গে যে একাত্মতা পোষণ করেছিল, গাজা তাকে ভুলবে না।

প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার দায়িত্বশীল মূসা আবু মারযুক বলেন, ২০১২ সালে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় মুরসি যে অবদান রেখেছেন, আমরা তা কখনও ভুলবো না।

মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর দিন সোমবার (১৭ জুন) রাতেই ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদে মোহাম্মদ মুরসির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এছাড়া ফিলিস্তিনি যুবকদের কয়েকটি সংগঠন মুরসির মৃত্যুতে দেশজুড়ে তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছিল।
গত ১৭ জুন মিশরের একটি আদালতের এজলাসে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তৃতা দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোহাম্মাদ মুরসি। এর আগে তিনি আদালতে বলেছিলেন, তার জীবন হুমকির মুখে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এতে পদচ্যুত হন হোসনি মোবারক। এরপর মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ইসলামপন্থী দল ‘ইখওয়ানুল মুসলিমিন’বা ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের’হাফেজ ড. মোহাম্মদ মুরসি।
কিন্তু ২০১৩ সালে গণঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
২০১৩ সালে মুরসির নেতৃত্বাধীন মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করা হয়। এর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে অনেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মুরসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাচার করেছেন। এই অভিযোগে আদালত হাফেজ মোহাম্মদ মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।
এমবি





