চীন ও রাশিয়ায় যেকোন সময় হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন, এ ধরনের আশংকা ব্যক্ত করেছেন একজন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেসিটিভিকে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এ আশংকার কথা জানান মার্কিন বিশ্লেষক ডোন ডিবার।

ইউক্রেনে রাশিয়ার তৎপরতার মুখে মার্কিন পরমাণু বোমা ইউরোপে রাখা উচিত বলে আমেরিকার নৌ বাহিনীর অ্যাডমিরাল সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন তারই পরিপ্রেক্ষিতে নিউ ইয়র্কের যুদ্ধ বিরোধী মানবাধিকার কর্মী এবং বেতার উপস্থাপক ডন ডিবারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।

ডিবার বলেন, রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে বিশেষ করে মস্কোর সঙ্গে বিপদজনক খেলায় মেতে উঠেছে আমেরিকা। তিনি এ বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউরোপে ন্যাটোর তথাকথিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া, ন্যাটোকে রুশ সীমান্তের কাছে নিয়ে যাওয়া, ইউক্রেনে মার্কিন সহযোগিতায় সরকার উৎখাত করা, গত ছয়মাস ধরে চলমান সেখানকার গৃহযুদ্ধের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ ছাড়া, সিরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার চুক্তিকে অগ্রাহ্য করে দেশটিতে মার্কিন বোমা হামলা এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের আহ্বানের বিষয়টিও তার আলোচনা থেকে বাদ যায়নি। ডোন ডিবার বলেন, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন আমেরিকার মেনে চলা উচিত।

তিনি আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এমন কোন আচরণ করবে না যা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের করেছিলেন এবং রাশিয়া কোনো রেড লাইন টেনে দেবে না।

রাশিয়া যা করতে চায় তাই বলে এবং যা বলে তাই করে বলে জানান তিনি।

ডোন ডিবার বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়াকে ঘেরাও করছে আমেরিকা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করছে এবং এশিয়ার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার নামে চীনের বিরুদ্ধে একই ভূমিকা গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে চীন ও রাশিয়া পরস্পরের প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে এবং কেবল আর্থ রাজনৈতিক নয় বরং সামরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রতি মার্কিন আগ্রাসী নীতির কারণে যে কোনো সময়ে রাশিয়ার উপর হামলার আশংকা করছে মস্কো ও বেইজিং।

আমেরিকা বিপদজনক খেলায় মেতে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন জনগণই কেবল এটি প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু মার্কিন জনগণের এদিকে মনোযোগ দেয়ার অবসর নেই। তারা এখন অন্য বিষয় নিয়ে মেতে রয়েছে। সূত্র: (আইআরআইবি)

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ, কেবি