রোববার (১৩ জুলাই) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এই দুই বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া আলাদা দুটি বার্তায় তিনি জানান, মেক্সিকোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রাজিলসহ ২০টির বেশি দেশের পণ্যের ওপরও শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিশেষ করে তামার ওপর ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রয়োজন হলে সমান পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।” ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইউরোপের স্বার্থ রক্ষায় কড়া জবাব দেওয়া উচিত এবং চুক্তি ব্যর্থ হলে সব ধরনের বিকল্প প্রস্তুত রাখতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী, কোনো তৃতীয় দেশ রাজনৈতিক চাপে অর্থনৈতিক সুবিধা সীমিত করতে চাইলে ইইউ সরকারি ক্রয়চুক্তি ও অন্যান্য সুযোগ প্রতিরোধমূলকভাবে বন্ধ করতে পারে।

এদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম এই শুল্ক আরোপকে “অন্যায় আচরণ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো আরও ভালো শর্তে একমত হতে পারবে। এ সময়ে ধৈর্য ও সংযম দেখানোই সবচেয়ে জরুরি।

মেক্সিকো সরকারের ভাষ্য, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তারা আগেই এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, মেক্সিকোর রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়, তাই নতুন শুল্ক দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ ফেলতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প কানাডার পণ্যে ৩৫ শতাংশ এবং ব্রাজিলের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন। ব্রাজিলের শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এনএইচ