কক্সবাজার সীমান্তে আশ্রয় নেয়া মুসলিম রোহিঙ্গাদের ঈদ কেটেছে অনাহারে-অর্ধাহারে। গত ঈদে নিজ বাড়িতে কোরবানি দিলেও, এবার খোলা আকাশের নীচে আহাজারি করে দিনটি কাটিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এখনো দলে দলে অনুপ্রবেশ করছে তারা।

গত কয়েক দিনেই বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গার সংখ্যা লাখ ছাঁড়িয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলো ছাড়িয়ে রাস্তার দু’পাশের খোলা জায়গায় অবস্থান নিয়েছে তারা।

আবুল হাশেম। মিয়ানমারের মংডু শহরের বলীবাজার এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। গত ঈদুল আজহায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দু’টি গরু কোরবানি দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে এক বছরের ব্যবধানে এবার কোরবানি দেয়াতো দূরের কথা, ঈদের নামাজও পড়তে পারেননি ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ।

দু’দিন আগে হাশেমের দুই মেয়ে, জামাতা ও তিন নাতীসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন খুন হয় মিয়ানমার সেনাদের হাতে। তাই প্রাণে বাঁচতে ঈদের দিন সকালে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন তিনি। চোখেমুখে এখনো আতঙ্ক নিয়ে রাস্তার পাশে বসে কাঁদছেন অঝোরে।

হাশেমের পাশের গ্রাম থেকে সেতারা বেগম এসেছেন দু’দিন আগে। সেতারার ঠাঁই হয়েছে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সামনে অস্থায়ী ঝুঁপড়ি ঘরে। ঈদের দিন ছোট ছেলে-মেয়েরা বায়না ধরেছিল মাংস দিয়ে ভাত খাবার। কিন্তু সাধ পূরণের সেই সাধ্য নেই এখন এ অভাগীর। তাইতো আলু-সব্জি দিয়েই ঈদ পার করেন তিনি।

ঈদুল আযহার দিনে সবাই কমবেশি ভালো খেতে পারলেও রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কাছে এবার তা ছিল কেবলই অসহায়ত্বের কান্না। অনেকের মনেই ছিল না ঈদের কথা।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার দাবি- গত এক সপ্তায় উখিয়া, টেকনাফ ও ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বলছে, এ সংখ্যা ছাঁড়িয়ে যাবে লাখেরও উপরে।

এমএ