জম্মু ও কাশ্মীরে ঢুকতে দেয়া হয়নি কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী ও দেশটির বিরোধী দলগুলোর আরও ১১ নেতাকে।
শনিবার (২৪ আগস্ট) রাহুল গান্ধী শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছালেও তাদের সেখান থেকেই দিল্লিতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিরোধী নেতাদের নিয়ে সকালে রাহুল গান্ধী দিল্লি থেকে কাশ্মীরে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তাদের কাশ্মীরে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। পরে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়।
কাশ্মীর সফরে যাওয়া সর্বদলীয় প্রতিনিধির মধ্যে কংগ্রেস, সিপিআই(এম), সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে’র সদস্যরা রয়েছেন।
সফরে রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা গুলাম নবী আজাদ ও আনন্দ শর্মাও গিয়েছিলেন।
এর আগে গুলাম নবী আজাদ দুইবার কাশ্মীরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) তিনি এই চেষ্টা করেছিলেন।
জম্মু-কাশ্মীরের তথ্য এবং জনসংযোগ অধিদফতর এক টুইটে জানায়, আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও হামলা থেকে যখন সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণকে রক্ষায় চেষ্টা করছে, তখন রাজনৈতিক নেতারা সেখানে সফরে গেলে অন্যান্য লোকজন অসুবিধায় পড়ে যাবেন।
কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের পর রাহুল বলেছিলেন, তিনি সেখানে সংঘর্ষ এবং বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাচ্ছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরের গভর্নর সত্য পাল মালিক তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
গভর্নরের আমন্ত্রণ পাওয়ার দুই দিন পর রাহুল তা গ্রহণ করেন। কিন্তু ততক্ষণে গভর্নর তার মত বদলে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেন এবং রাহুলের ভ্রমণের উপর কিছু শর্ত আরোপ করে বিবৃতি দেন।
গভর্নর মালিক বিবৃতিতে বলেন, রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের আনতে চেয়ে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছেন। যা আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং এখানে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়তে পারেন।
শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে গুলাম নবী আজাদ বলেন, আমরা সব দায়িত্বশীল দল ও তাদের নেতারা কোনো আইন ভাঙতে যাচ্ছি না। জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। গত ২০ দিন ধরে সেখানে অচলাবস্থা চলছে। সরকার বলছে-পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু তারা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না।
এই কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, এতে কোনো বৈপরীত্য নেই? যদি কাশ্মীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তবে আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না কেন?
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
এরপর থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার। তবে ধারা বাতিলের একদিন পর থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করেছে কাশ্মীরিরা। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই নিহত হয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময়ই বিক্ষোভের কথা অশিকার করে আসছে। এর ফলে কাশ্মিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য গোলযোগ প্রতিহত করতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়।
এমবি





