ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ঝাড়খণ্ডে দুর্গা মন্দিরের কাছে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১১ পূণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছরই শ্রাবণ মাসে শয়ে শয়ে পূণ্যার্থী এখানো জড়ো হন।

রোববার রাত থেকেই পুজো দেয়ার জন্য মন্দির চত্বরের আশপাশে প্রায় এক লাখ পূণ্যার্থী হাজির হন। এ দিন ভোরের আলো ফুটতেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।

মন্দিরের গেট খোলা মাত্রই বাধে বিপত্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি আয়ত্তে লাঠি চার্জ করে বলে অভিযোগ। তখনই হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে এক মহিলা-সহ ১১ জনের মৃত্যু হয়।

ডিআইজি ডি বি শর্মা বলেন, “শ্রাবণ মাসের সোমবারের ভিড় সামলাতে আগে থেকেই প্রচুর পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ঘটনাটি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আহতদের চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।”

দেওঘরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানান, প্রচুর মানুষের জমায়েত হওয়ার আশঙ্কায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। হঠাত্ করে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গেল।

মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস এই দুর্ঘটনার জন্য সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

দেওঘরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১২-য় পুজো দিতে এসে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের এবং আহত হয়েছিলেন প্রায় ৩০ জন।

এর আগে ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডের এই মন্দিরেই পূণ্যার্থীদের ভিড়ে পদদলিত পদদলিত হয়ে পাঁচ নারীর প্রাণহানি হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হন ১১ জন।

এআর