সনুকে কাছে পেয়েই জড়িয়ে ধরলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। পাশেই দাঁড়ানো সনুর মা মুমতাজ ও বাবা মেহবুব।

সুষমা হিন্দি ভাষায় জানতে চাইলেন, ‘কেমন লাগছে মায়ের কাছে ফিরে?’ সনু পরিষ্কার বাংলায় জানাল, ‘ভালো।’ সুষমা অবাক হলেন, বাংলাদেশে গিয়ে বাংলা শিখে ফেলেছ?’ পরে সুষমা যতই হিন্দিতে প্রশ্ন করেন, আর সনু জবাব দেয় বাংলায়।

মুখের ভাষা যাই হোক। ওই পরিবেশের ভাষা একটাই। সুখের, আনন্দের। চার বছর পর শিশু অভিরূপ সনুকে (১১) ফিরে পেয়েছেন মুমতাজ ও মেহবুব।

২০১০ সালে পাচারের শিকার হয়ে বাংলাদেশে বরগুনায় চলে আসে সনু। এরপর বাংলাদেশের জামাল বিন মুছা সনুকে উদ্ধার করেন। জামাল নিজেই দিল্লি যান আর খুঁজে বের করেন সনুর বাবা ও মাকে।

কূটনীতিক বাধা পেরিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বাবা ও মায়ের কাছে ফিরে যায় সনু। বিমানবন্দরেই সনুকে বুকে টেনে নেন মুমতাজ ও মেহবুব।

ভারতের সংবাদ মাধ্যম দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, এর পরই সনুর পরিবারকে যেতে হয় সুষমা স্বরাজের কার্যালয়ে।

সনুকে নিজের দেশে স্বাগত জানান খোদ সুষমা স্বরাজ। সুষমা স্বরাজ মুমতাজকে বলেন, ‘ঈদের আগেই ঈদ এসে গেল তাই না? তোমরা খুশি তো?’ মুমতাজ উত্তর কি দেবেন, চোখ দিয়ে কেবলই পানি ঝরছে। এ কান্না আনন্দের, ভাষায় প্রকাশের নয়।

সনুর বাবা মেহবুব বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। আমি এখন অনেক খুশি। আর এজন্য সুষমা স্বরাজকে ধন্যবাদ।’

এ আবেগ সুষমাকেও স্পর্শ করেছে। তিনি নিজেও খুব খুশি। তিনি বলেন, ‘দিল্লি থেকে হারিয়ে বাংলাদেশে চলে যায় সনু। আমরা সনুর মায়ের সঙ্গে ওর ডিএনএ মিলিয়ে দেখেছি। সনু তার মা ও বাবাকেই ফিরে পেয়েছে।’

সনুর সঙ্গেই বরগুনার জামালের গল্প জড়িয়ে আছে। উদ্ধারের পর সনুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যান জামাল বিন মুছা।

কেবল দেখাশোনা নয়, ভারতে গিয়ে বাবা-মায়ের খোঁজ করা থেকে শুরু করে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া পর্যন্ত যাবতীয় খাটুনি করেছেন জামাল। এ যেন বাজরাঙ্গি ভাইজানের আরেক চরিত্র।

এসএম