চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে পুরুষদের বড় দাড়ি ও নারীদের পর্দাসহ মোট ১৫ টি আচরণকে নিষিদ্ধ করে গত বুধবার একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ইসলামি উগ্রবাদী ধ্যান-ধারণা থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

এমন অসাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘর মুসলিমরা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা রাস্থায় নেমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াংয়ে মূলত উইঘর মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। এখানে প্রায় ১০ লাখ মুসলিমের বসবাস। জিনজিয়াংয়ের সংসদে যে আইনটি পাশ করা হয়েছে তাতে ১৫ টি আচরণকে উগ্রবাদী উল্লেখ করে সেগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্সপ্রচার না দেখা, বেতার না শোনা, খাদ্যের মধ্যে হালার খাবার নির্বাচন, অতিরিক্ত বড় দাড়ি রাখা, ধর্মীয় নামকরণ, পর্দাকরা, বিবাহ ও বিবাহ-বিচ্ছেদের ক্ষেত্রের চীনা আইন অনুসরনের পরিবর্তে ধর্মীয় আইন মেনে চলা, শিশুদের সরকারী বিদ্যালয়ে না পাঠানোর প্রবণতা, পরিবার-পক্কল্পনা অনুসরণ না করা। উগ্রবাদ বা চরমপন্থাকে উৎসাহিত করতে পারে এমন প্রকাশনার উৎপাদন, বিপণন , ডাউনলোড করা ও পড়া ইত্যাদিও নতুন আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে নতুন এই আইনের ফলে জাতিগত সংঘাত আরো প্রবল হবে বলে আশংকা করছে । জিনজিয়াংঅঞ্চলে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে মুসলিম উইঘরের শত শত মানুষ উগ্র জঙ্গীবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগে হত্যার স্বীকার হয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করে দেশটির দমনমূলক রাজনীতিই এই সহিংসতার জন্য দায়ী।

সুত্র: আরব নিউজ

এমই