তালেবান নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জশির প্রদেশকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা।

আত্মসমর্পণ না করলে ওই প্রদেশের ওপর হামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুরো দেশ তালেবানের অধীনে চলে আসে।

আফগানিস্তানের সবগুলো প্রদেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিলেও পাঞ্জশির তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়।

জাতিগত তাজিক জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি এই প্রদেশ সোভিয়েতবিরোধী আগ্রাসনের প্রতিরোধের কিংবদন্তি যোদ্ধা আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদ ও আশরাফ গনির ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহের নেতৃত্বে তালেবান যোদ্ধাদের প্রতিরোধের ঘোষণা করে।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

এই বছরের মে মাসে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এপ্রিলে এক ঘোষণায় ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জানান।

পরে জুলাই সময়সীমা আরো কমিয়ে এনে ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।

মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাথে তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।

সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে।

৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজ দখল করে তারা।

যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান যোদ্ধারা। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার।

এইচএন