ইরাকের সবচেয়ে বড় প্রদেশ আনবারে আইএসআইএলের আত্মঘাতি হামলায় অন্তত ১৮ ইরাকি সেনা নিহত হয়েছেন। ইরাকি সেনাদের ওপর আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এ্যান্ড দ্য লেভান্ট)-এর সাম্প্রতিক একের পর এক হামলার সবশেষ আঘাত এটি।

আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদি শহর থেকে গত জানুয়ারি (২০১৬) মাসে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএলকে বিতাড়িত করে  ইরাকি সৈন্যরা।  এরপরই একের পর এক আত্মঘাতি হামলা চালাতে শুরু করে আইএস। আর তারই ধারাবাহিকতায় সবশেষ রামাদি শহরে চালানো আত্মঘাতি গাড়ি হামলায় নিহত হলো ১৮ ইরাকি সেনা।

ইরাকের সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬) সকালে এই আত্মঘাতি হামলাটি চালানো হয় ইরাকের আল-বু ধিয়াব শহরে, যেটি আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। 

সামরিক বাহিনী সূত্রে আরও জানা যায়, আইএসআইএলের তিন আত্মঘাতি বোমা হামলাকারী সেনাবাহিনীর ৩৯তম ব্রিগেডের ১০তম ডিভিশনের ওপর একযোগে হামলার চেষ্টা চালায়। তবে, সেনাবাহিনীর ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল দুই আত্মঘাতি গাড়ি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। 

তবে, তৃতীয় আত্মঘাতি বোমা হামলাকারী কোনমতে ওই সেনা ডিভিশনের হেড-কোয়ার্টারের গেটে পৌছাতে সক্ষম হয় এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। আর এতেই নিহত হন ওই ১৮ ইরাকি সেনা। 

বাগদাদ থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি ইমরান খান জানান, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটা এক বড় আঘাত। কারণ গত মাসে রামাদি থেকে আইএসআইএলকে বিতাড়নের পর ধারণা করা হয়েছিল শহরটি এখন নিরাপদ।

সাংবাদিক খান অবশ্য বলেন, তবে ইরাকি সেনাদের ওপর আইএসআইএলের সাম্প্রতিক হামলার পটভূমিতে এখনই এটা বলা সমীচীন হবে না - আইএসআইএল আবারো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে (resurgence)।

“তবে আমরা যেটা জানতে পারছি তা হলো-আইএসআইএল আক্রমনের তীব্রতা বাড়াতে সক্ষম। কারণ তাদের এখনো ব্যাপক শক্তি রয়েছে”, সাংবাদিক খান বলেন।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির (২০১৬) শুরুতে এক বড় ধরনের সংঘাতের মধ্য দিয়ে আইএসআইএলের কবল থেকে রামাদিকে মুক্ত করেছিলেন ইরাকি সেনারা।

কিন্তু এরপর থেকেই রামাদি  শহরে আইএসআইএলের ক্রমাগত হামলা ও তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে ইচ্ছে ইরাকি সেনাদের। গত সপ্তাহেও এরকম কয়েকটি হামলায় ডজন খানেকের মতো ইরাকি সেনাকে প্র্রাণ হারাতে হয়েছে।

এদিকে, রামাদির পূর্ব দিকের পাশ্ববর্তী শুজারায়াহ শহর থেকে আইএসআইএলকে বিতাড়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইরাকি সেনাবাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে এই শহরে প্রায় ৩০০ আইএসআইএল যোদ্ধা অবস্থান করছে।

কেবি