অবশেষে নতুন প্রেসিডেন্ট পেয়েছে আফগানিস্তান৷ আশরাফ গনিকে প্রেসিডেন্ট এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহকে দেশের ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা’হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ এর ফলে অচলাবস্থা কাটলেও আফগানিস্তানের অনেকে খুশি হতে পারেননি৷
আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখা গেল রবিবার৷ সেদিন সংক্ষিপ্ত এক বৈঠকে বসেছিলেন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আশরাফ গনি এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ৷ রাজধানী কাবুলের প্রেসিডেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে আশরাফ গনিকে প্রেসিডেন্ট এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহকে ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়৷
অচলাবস্থা কাটানোর স্বার্থে ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা' নাম দেয়া হলেও আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ আসলে প্রধানমন্ত্রীর সমান ক্ষমতাই উপভোগ করবেন৷ বৈঠক শেষে আশরাফ গনি বা আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ অবশ্য কোনো বিবৃতি দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাননি৷
তাই বলে দুই পর্বের ভোট শেষে ভোটের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রেখে দুই প্রার্থীর এভাবে আপোসরফায় সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেমে নেই৷ অধিকাংশ আফগান স্বস্তিই পেয়েছেন৷ গত এপ্রিলে প্রথম এবং জুনে দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা কাটছিল না৷ অবশেষে একটা দফারফা যে হয়েছে তাতেই স্বস্তি পেয়েছেন অনেকে৷
জাতীয় ঐক্যের আশা
প্রধান দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যে অবশেষে পারস্পরিক বিরোধ দূরে রেখে এক সঙ্গে সরকার পরিচালনায় রাজি হয়েছেন, কারো কারো কাছে এটাই বড় স্বস্তির ব্যাপার৷ কাবুলের বাসিন্দা তানিন সুলাইমানখাইল তাদের একজন৷ রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে আফগানিস্তানে বিনিয়োগের আগ্রহ কমছিল –এ বিষয়টি উল্লেখ করে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কয়েক মিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ হারিয়েছি৷ প্রচুর মানুষ বেকারত্ব বরণ করছিল৷ অবশেষে যে এ অবস্থার অবসান হতে চলেছে তা ভেবেই আমি খুশি৷''
ভোট কোনো গুরুত্বই পেল না!
তিন মাস ধরে চলল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ অথচ ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগেই নিজেদের মধ্যে আপোস করে ফেললেন আশরাফ গনি এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ৷ এই ব্যাপারটি অনেকের ভালো লাগেনি৷ তারা মনে করেন, এর ফলে তারা যে কষ্ট করে ভোট দিলেন সেই ভোট কোনো মূল্য পেল না৷
এমন হতাশা নিয়েই কাবুলের হামেদ বললেন, ‘‘আমি দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলাম৷ কিন্তু ভোটের তো কোনো গুরুত্বই দেয়া হলো না৷ জাতীয় ঐক্যের সরকার হয়তো ভালোই হবে, তবে তারা আফগানদের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়৷''
সময়ের অপচয়
অশান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশন যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেনি এ নিয়ে অনেক আফগান নাগরিকই ক্ষুব্ধ৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্ত ক্ষোভ আর অসন্তোষের কথা জানাচ্ছেন তারা৷ টুইটারে মোদাসের লিখেছেন, ‘‘বছরের সেরা দুই মিথ্যে: ১. আমরা জনগণের ভোটের প্রশ্নে কোনো আপোশ করবো না৷ ২. এক ঘণ্টার জন্যও আমরা কোনো প্রতারকের সরকারকে বরদাশত করবো না।" সূত্র: ডয়চে ভেলে
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





