প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস দ্রুতই গ্রাস করছে যুক্তরাষ্ট্রকে। দেশটিতে মহামারীর বিস্তার থামছেই না।

রোববার দেশটিতে নতুন করে আরও প্রায় ৩২ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের কয়েক সপ্তাহের পরিসংখ্যানের সমান।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, শুধু রোববারই দেশটিতে নতুন করে আরও ৩১ হাজার ৯৬৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদিন করোনা কেড়ে নিয়েছে ১ হাজার ৩৯৪ জনের প্রাণ। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় ৯০ হাজার ৯৭৮ জন প্রাণ হারাল।

এই মৃত্যুর মিছিলে রয়েছে দেশটিতে অভিবাসিত বাংলাদেশিরাও। এ পর্যন্ত ২৫৮ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন সেখানে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারসে দেয়া সর্বশেষ তথ্য একই পরিসংখ্যান জানাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত মহামারী কাটিয়ে সুস্থ হতে পেরেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮৯ জন। চিকিৎসাধীন ১০ লাখ ৯০ হাজার ২৯৭ জন। এ বিপুলসংখ্যক রোগীর মধ্যে ১৬ হাজার ৩৫৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ পর্যন্ত ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮০টি নমুনা পরীক্ষায় এ ফল মিলেছে দেশটিতে।

উল্লেখ্য, আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছেও নেই দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দেশ রাশিয়া। করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত অঞ্চল জনবহুল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। শুধু ওই রাজ্যে ৩ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৮ হাজার ১৩৪ জন।

এদিকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হোক বা না হোক মার্কিন অর্থনীতি চালু থাকবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন না। অনেকে দায়িত্ব পালনের ভানও যে করছেন না মহামারী তা দেখিয়ে দিয়েছে।’

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

এমআর