ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সব দুর্নীতির খবর ফাঁস করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। বুধবার দেশটির সংসদ চত্বরে তিনি এই হুমকি দেন।
এর আগে রাহুল বলেছিলেন, লোকসভায় তিনি মুখ খোলার সুযোগ পেলে ভূমিকম্প হবে। বুধবার তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন। কারণ, তার ব্যক্তিগত দুর্নীতির কথা আমি জানি।
সেই কারণেই ভয় পেয়ে আমাকে লোকসভায় বলতে দিচ্ছেন না। আমার কাছে যা তথ্য আছে, বললে প্রধানমন্ত্রীর বেলুন ফুটো হয়ে যাবে।’
দেশটির প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার মুখ থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির এমন অভিযোগের পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
রাহুল বলেন, তিনি নির্বাচিত সাংসদ। অমেঠীর মানুষ তাকে লোকসভায় পাঠিয়েছেন। তাই লোকসভাতেই যা বলার বলবেন। তবে অনেকে মনে করছেন- প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো স্পর্শকাতর অভিযোগ তিনি করলে তা নিয়ে মানহানির মামলা পর্যন্ত হতে পারে।
কিন্তু সংসদের অধিবেশনে কিছু বললে তা নিয়ে মামলা ঠোকার সুযোগ নেই। রাহুল এই রক্ষাকবচের সুবিধাটাই নিতে চাইছেন।
একাধিক কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তো রয়েছেই। ২০১৩ সালে সিবিআই কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীতে হানা দিয়ে তাদের সিইও-র কম্পিউটার থেকে একটি নথি উদ্ধার করে।
তাতে লেখা ছিল, ‘গুজরাত সিএম’কে ২৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। পরে অবশ্য জেরার মুখে উল্লিখিত ‘গুজরাত সিএম’ যে নরেন্দ্র মোদি, তা অস্বীকার করে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী। তবে এখনও এ নিয়ে এফআইআর দায়ের হয়নি।
বিরোধীদের দাবি, ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর নয়ডায় সহারা গোষ্ঠীর কর্পোরেট দফতরে হানা দিয়ে পাওয়া একটি নথিতে ‘আমদাবাদে মোদীজি’কে ৪০ কোটি টাকা দেয়ার কথা লেখা ছিল।
এ ছাড়া, মোদি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০ হাজার কোটি টাকার গ্যাস কেলেঙ্কারি বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে আদানি গোষ্ঠীর ২০০ কোটি টাকা জরিমানা মাফ করার মতো অভিযোগ নিয়ে আগেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। আর নোট বাতিলের পরে রাহুল নিজেই বলেছেন, ‘পেটিএম আসলে পে টু মোদি’। অর্থাৎ মোদী পুঁজিপতি এবং ই-ওয়ালেট সংস্থাগুলোর সুবিধে করে দিচ্ছেন, ইঙ্গিতটা তেমনই।
এমএনজে





