ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি শামখানি দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনও যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শত্রুরা ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে জানে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বের হওয়ার পর শনিবার তিনি এসব কথা বললেন।

এদিকে আলি শামখানি বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে আমি সুনির্দিষ্ট করে এবং আস্থার সঙ্গে বলছি যে, যুদ্ধের আশঙ্কা নেই কারণ শত্রুরা ইরানের রাজনৈতিক শক্তির কথা জানে। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের সামরিক এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথাও তাদের জানা। অন্যদিকে শত্রুদের ভেতরে আস্থার ঘাটতি, সমন্বয় ও সক্ষমতার অভাব রয়েছে।

এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। জার্মানির ডার স্পাইগেল পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা জানান ম্যাক্রোঁ।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তির শর্তে কোনও রকম পরিবর্তন চাইলে তা মানবে না তেহরান। তিনি বলেছেন, সম্পাদিত চুক্তিতে থাকা পূর্ববর্তী শর্তগুলো অটুট না থাকলে ইরান তা মেনে নেবে না।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের কাছে ইউরেনিয়াম প্রকল্প সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। তবে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ চায় ইউরোপীয় স্বাক্ষরকারীরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে স্থায়ী অবরোধ আরোপ করুক। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো কোনভাবেই এতে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একা এই চুক্তি বাতিলের এখতিয়ার নেই বলেও দাবি তাদের।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী প্রতি ৯০ দিন পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিশ্চিত করতে হয় যে, ইরান এ সমঝোতা মেনে চলছে। যদি তিনি বলেন, তেহরান সমঝোতা মানছে না তাহলে মার্কিন কংগ্রেস এ সমঝোতা বাতিল করতে বাধ্য। সে বছরই জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন-জেসিপিওএ’র আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে অাগামী ১২ মে ট্রাম্প চুক্তিটি নতুন করে নবায়ন না করলে নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হবে। ইউরোপিয়ান শক্তিগুলোকে ওই চুক্তির ‘ভয়ংকর ত্রুটিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে’ ওই তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।