ভারতের দ্বিতীয় স্করপেন ডুবোযান আইএনএস খান্ডেরির পরীক্ষামূলক সমুদ্র যাত্রা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা সফল হলে ডুবোযানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। টর্পেডো ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হামলা চালাতে সক্ষম আইএনএস খান্ডেরি।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) মুম্বাইয়ের মাজাগাঁও ডক থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক ডুবোযানটি আনুষ্ঠানিকভাবে আরব সাগরে নামানো হয়। এসময় ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ ভামরে, তার স্ত্রী বীণা ভামরে এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবার উপস্থিত ছিলেন। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি বিভিন্ন পরীক্ষামূলক অভিযানে অংশ নেবে।

অন্যান্য ডুবোযানের যাতায়াত খুব একটা নিঃশব্দ নয়। তাই প্রতিপক্ষ সহজেই এগুলোর গতিবিধি আঁচ করতে পারে। স্করপেন ডুবোযান এক্ষেত্রে অনেক বেশি নিঃশব্দ ও ব্যতিক্রম। তাই হামলায় অংশ নেয়া ছাড়াও গুপ্তচরবৃত্তি ও মাইন পাতার কাজেও এর জুড়ি নেই।

ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৬টি স্করপেন ডুবোযান তৈরি করছে ভারত। এজন্য ভারতের মোট ব্যয় হচ্ছে ৩০০ কোটি ডলার। এই গোত্রের প্রথম ডুবোযান আইএনএস কলবরী গত বছরই ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে এসেছে। কলবরীর পরীক্ষামূলক অভিযান প্রায় শেষ পথে। সেটি খুব শীঘ্রই ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। এর মধ্যেই দ্বিতীয় স্করপেন অ্যাটাক ডুবোযান আইএনএস খান্ডেরির পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হল। বাকি চারটি ডুবোযানের নির্মাণ কাজও দ্রুত এগোচ্ছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর আওতায় এখন ১৫টি ডুবোযান আছে। এগুলোর মধ্যে ১৩টি ডিজেল ইলেকট্রিক অ্যাটাক ডুবোযান। বাকি ২টি নিউক্লিয়ার অ্যাটাক ডুবোযান। চীনের সাথে সামরিক প্রতিযোগিতা ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্রান্সের সাথে এ প্রকল্প হাতে নেয় ভারত।

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় এ প্রকল্পের বিষয়ে বেশকিছু গোপন তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হয়। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে এ কারণে ডুবোযানগুলোর সক্ষমতায় কোনো প্রভাব কিংবা পরিবর্তন আসেনি বলে ভারতীয় নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে

মাহমুদ