ভারতে তামাক ও ধূমপানের পক্ষে সাফাই গাইলেন তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিরই প্রধান। ক্যান্সারের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক খুবই কম বলেও মন্তব্য করেন ওই বিজেপি পার্লামেন্ট সদস্য। তার এরকম মন্তব্যে দেশটির রাজনৈতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে এখন তোলপাড় চলছে। খবর এনডিটিভির।
ক্যান্সারের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক খুব কম- তার এ মন্তব্যে হতচকিত হয়েছেন দেশটির ডাক্তার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। অদ্ভূত এই মন্তব্য করা বিজেপি নেতা ডিকে গান্ধী মহারাষ্ট্র থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ধূমপানের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি আইন করার একটি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে তারই নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্ট কমিটি।
তার নিজের বক্তব্যের মধ্যেই রয়েছে ভিন্নমত। গতকাল সোমবার এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডিকে গান্ধী বলেন, "ধূমপানের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে কি না এ ব্যাপারে ভারতে কোন গবেষণা হয়নি। তাহলে কীভাবে বলা হচ্ছে ধূমপানের ফলে ক্যান্সার হয়!"
আজকে আবার তিনি বলেছেন, "তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্য দেশের গবেষণা ও জরিপ কেন আমরা অনুসরণ করতে যাবো?" তামাক কারখানাগুলোর প্রশংসা করে তিনি জানান, এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। জরিপে শুধু ক্যান্সারের বিষয়টি আসে কেন, কর্মসংস্থানও যে হচ্ছে এই বিষয়টি কেন আসে না, এই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
তার এমন মন্তব্যে অবাক হয়েছেন অনেক রাজনীতিবিদ। বিরোধী দলীয় এক পার্লামেন্টা সদস্য সুপ্রিয়া সুলে বলেন, "আমি তার এ মন্তব্যে মর্মাহত হয়েছি। তিনি (ডিকে গান্ধী) ক্যান্সার সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না। আমি তার সঙ্গে কথা বলবো।"
এদিকে, গান্ধীর দলেরই আরেক পার্লামেন্ট সদস্য প্রকাশ জাভাদকার বলেন, "বিজ্ঞান তো বিজ্ঞানই, আমি তার সঙ্গে একমত হতে পারছি না।"
এদিকে, তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির এমন মন্তব্যে সুবিধা হবে তামা কোম্পানিগুলোর। আগামীকাল (১ এপ্রিল) তামাক সংক্রান্ত একটি আইন বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা অনেক পিছিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিগারেটের প্যাকেটের ৮৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে ধূমপানের ফলে ক্ষতিকর প্রভাব সম্পকে সতর্কবাণী রাখার এ আইন হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতে প্রতি বছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রায় ৯ লক্ষ মানুষ, যা চীনের পর বিশ্বে দ্বিতীয়। বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করেছেন, এই দশকের শেষ নাগাদ বাৎসরিক এই মৃত্যুর হার ১৫ লক্ষ ছাড়াতে পারে।
এমএ





