বাংলাদেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের অব্যাহত গুম-খুন নিয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। এতে গুম-খুনের বিষয়টি অস্বীকার করায় সরকারের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রকাশিত এই সম্পাদকীয়তে গুম-খুন ইস্যুতে বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়।
এতে বলা হয়, ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অধিকার’র তথ্য মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ আট বছর আগে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে বাংলাদেশে ৩২০ জনের বেশি বেআইনিভাবে আটক অথবা গুমের শিকার হয়েছেন।
এসব ব্যক্তিকে তাদের বাড়ি কিংবা রাস্তা থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) অথবা ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের সাদা পোশাকের সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে, একই সঙ্গে রয়েছে সন্দেহভাজন অপরাধী এবং ইসলামি জঙ্গিরা।
অধিকার’র তথ্য মতে, গত বছর যে ৯০ জন গুম হয়েছেন, তাদের ২১ জন খুন হয়েছে আর নয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের একজন বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মীর আহমদ বিন কাসেম।
স্ত্রী, বোন এবং অল্প বয়সী দুই মেয়ের সামনে থেকে যারা মীর আহমদ বিন কাসেমকে তুলে নিয়ে যায়, তারা তাদের পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ধরনের ঘটনা রীতিতে পরিণত হওয়ায় উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ গত ফেব্রুয়ারিতে বলেছে, ‘ক্রমবর্ধমান গুমের ঘটনা থামাতে বাংলাদেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ আদতে গুমের গতি কেবল দ্রুততর হতে লাগল।
আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশি আইনকে উপহাস করে শেখ হাসিনার সরকার অভিযোগকারীদের বিষোদগার করে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাল, যখন জাতির সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুমের বিষয়ে যখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিখুঁতভাবে তৈরি একটি প্রতিবেদন এ মাসে প্রকাশ করল, তখন প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিদ্রুপাত্মক ভাষায় বললেন, ‘এই সংগঠনটি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।’
ভুক্তভোগীদের বেদনাহত প্রিয় স্বজন যারা তাদের পরিণতি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার থেকে কোনো জবাব পাননি কিংবা আদালত থেকে কোনো উদ্যোগ দেখেননি, তাদের অপমান করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘কাদেরকে আপনারা গুম হয়েছে বলছেন? দেশে অনেকে আছে ঋণ শোধ করতে না পেরে আত্মগোপন করেছে। কেউ কেউ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে নিখোঁজ হয়েছেন।’
জাতিসংঘ এ ধরনের কোনো উদ্বেগ জানায়নি এমন মিথ্য দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই প্রতিবেদন নিয়ে তাচ্ছিল্য করেন এবং সরকারি খুনে কর্মকাণ্ডের বৈধতার সংকেত প্রদান করেন।
যদি আসাদুজ্জামান খান জাতিসংঘের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন, তার সরকারের উচিত একটি তদন্ত চালানোর জন্য সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান জায়েদ রা’দ আল-হুসেইনকে আমন্ত্রণ জানানো। কেবল তখনই সরকার তার জনগণ, বিশ্ব জনমত এবং প্রকৃত সত্য সততার সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারে।
এমএনজে





