ভিন্ন ভাষাভাষী নানা জাতি-উপজাতি ও নৃগোষ্ঠীর আবাসভূমি পাকিস্তানে উর্দু ভাষার একচেটিয়া প্রাধান্য দেশটির জন-জীবনে নানা ধরনের দুর্গতি বয়ে আনছে বলে মনে করেছে ইউনেসকো।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি-বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো বলেছে, দেশটির শিক্ষা কার্যক্রমে, বিশেষত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে উর্দু ভাষার প্রাধান্য সেখানে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অসাম্য তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইউনেসকোর প্রকাশ করা এ-সংক্রান্ত একটি নীতি গবেষণাপত্রে এই মত দেওয়া হয়েছে।

ইউনেসকোর নীতি গবেষণাপত্রে ৪০টি দেশের শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে তুরস্ক, নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও গুয়াতেমালার ভিন্ন ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া এসব দেশের শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান নিশ্চিত করার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশের কম বাসিন্দা বাড়িতে উর্দু ভাষায় কথা বলে। দেশটিতে ৬টি বড় এবং ৫৮টি ছোট ভাষাভাষী গোষ্ঠী বাস করে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতা লাভের পর উর্দুকে জাতীয় ভাষা ঘোষণা করা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই ভাষায় শিক্ষাদানের নির্দেশনা দেওয়া আছে। যেসব শিশুর মাতৃভাষা উর্দু নয়, শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তাদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই উর্দুভাষী শিশুদের সঙ্গে তারা পেরে ওঠে না। এটি পরে সামাজিক অসাম্যের দিকে যেতে থাকে। রাজনৈতিক অস্থিরতারও কারণ হয়ে ওঠে তা।

 এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাষাগত সংখ্যালঘুসহ সব শিশু যাতে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সেদিকে খেয়াল রেখে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন, ইউনেসকোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টের পরিচালক আরোন বেনাভোট।

 

এমআইএস।