মুসলিম বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন [Organisation of Islamic Cooperation] ওআইসির ১৩তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। গতকাল [বৃহস্পতিবার] অংশগ্রহণকারী দেশের সরকার প্রধানদের উপস্থিতিতে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী নগরী ইস্তাম্বুলে এই সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনে ৩০টি দেশের সরকার প্রধান ও ২০ টির অধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এর আগে গত ১২-১৩ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে সম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়ক দুই দিনের সভায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওআইসির পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধি, ওআইসিভূক্ত বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের বিপুল সংখ্যক সদস্য ও সহায়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই সম্মেলনে যোগদান করেছেন।

মুসলিম বিশ্বে চলমান সংকট এবং ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের পটভূমিতে এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছে “Unity and Solidarity for Justice and Peace” অর্থাৎ “ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য ঐক্য ও সংহতি”।

মুসলমানদের মধ্য বিদ্যমান আন্ত-কলহ ও ভ্রাতৃঘাতি গৃহযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদ, সহিংস চরমপন্থা ও ইসলামোফোবিয়া এবং বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট মানবিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মুসলিম সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসন, দারিদ্র, উন্নয়ন এবং ওআইসির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গৃহিত কর্ম পরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা চলমান ইস্যু নিয়ে এবারের সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনে অংশ নেয়া মুসলিম নেতারা উম্মাহর সামনে বিদ্যমান সমস্যা মোকাবেলায় ঐক্য ও সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। মুসলিম বিশ্বের জন্য ওআইসির আওতায় আগামী ৩ বছরের যৌথ কর্মপরিকল্পনায়ও সম্মত হয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

ওআইসির নতুন চেয়ারম্যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের নেতৃত্বে সম্মেলনে কয়েকটি ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক ডকুমেন্টও গৃহিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন সংকট মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণ ও ইস্তাম্বুল ঘোষণা বিষয়ক “Resolution on Palestine, OIC 2025: Programme of Action, Final Communique and the Istanbul Declaration” শীর্ষক ডকুমেন্ট।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ [শুক্রবার] সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে একটি বিবৃতি পাঠ করেন যদিও পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলনের এই পর্বে যোগ দিয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। তবে, তিনি সম্মেলনে যোগ দিতে না পারায় তার পক্ষে বিবৃতি পাঠ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে ঐক্য, ন্যায়বিচার ও সাম্যের পথে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে একসাথে কাজ করার আহবান জানানো হয়।

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত ওআইসির ২য় শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগদানের কথা স্মরণ করে বলেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির জন্য বঙ্গবন্ধু অনেক কাজ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সন্ত্রাস ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির যেই ঘোষণা দিয়েছেন তার আলোকে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

তিনি ‘ইসলামোফোবিয়ার [Islamophobia]’ নামে ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আন্ত-সংলাপেরও আহবান জানান।

শেখ হাসিনা ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন চলছে বিশেষ করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও পরামর্শ দেন।

মুসলিম বিশ্বে বিদ্যমান আন্ত-কলহ মোকাবেলায় ওআইসিকে আরো জোরালো ও কার্যকর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আসীন হওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ওআইসিভূক্ত দেশসমূহের মধ্য মুক্তবাণিজ্য চালুসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সবাইকে আরও উদার হওয়ার আহবান জানান।

কেবি