একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতিতে যেতে কায়রোতে আলোচনায় বসেছেন হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা। মিশরের মধ্যস্থতায় আলোচনা 'অগ্রগতি'র দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মিশরের গোয়েন্দা কর্তারা। খবর আল জাজিরার।
আলোচনায় হামাসের পাশাপাশি গাজার অন্যতম যোদ্ধা গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ গ্রুপের প্রতিনিধিও রয়েছেন।
মিশর জানিয়েছে, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের প্রতিনিধিদের দাবিগুলো নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এসব দাবি নিয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি; কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে এ থেকে 'আশানুরূপ' কিছু বেরিয়ে আসবে।
মিশরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করা যাবে।
তবে, আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না কেউই। মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরও এ ব্যাপারে শুনাতে পারছে না কোন আশার বাণী। কারণ দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ দাবিতে অনঢ়।
একদিকে, ফিলিস্তিনে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলছে ৮ বছর ধরে গাজা উপত্যকায় যে ইসরাইলি অবরোধ চলছে তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে, সীমান্ত খুলে দিতে হবে। অপরদিকে, ইসরাইলের দাবি, গাজাকে পুরোপুরি অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। কিন্তু ইসরাইলের এই দাবি হামাসের পক্ষে মেনে নেয়া কখনই সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আবার অবরোধ তুলে নেয়া হবে-ইসরাইলের কাছ থেকে এমনটি আশা করতে পারছেন না কেউই।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ৭২ ঘণ্টার সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। আজ বুধবার যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দিন চলছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই গাজা থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় ইসরায়েল। এখন প্রচেষ্টা চলছে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পরিণত করার। টানা ২৮ দিনের ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রায় ১৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনি। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৪৬০ কোটি ডলার। আর বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন পাঁচ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি। সূত্র: আল জাজিরা
ঢাকা, ৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





