ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বুধবারও বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহূর্মুহু পাথর ও মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করছে।
সরকার বিরোধীদের হটাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশের ব্যাপক অভিযান শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েকশ’।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ সংঘর্ষের জন্য বিরোধী নেতৃবৃন্দকে দায়ী করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, স্বাধীনতা স্কয়ারে আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। দাঙ্গা পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা উভয়ে হাতে ঢাল, বুকে বর্ম ও মাথায় হেলমেট পরে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।
গত তিন মাস ধরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ার মঙ্গলবার রাতভর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের কিয়েভ ছাড়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাতে কান না দিলে নির্ধারিত সময়ের পর পুলিশ অভিযানে নামে। পুলিশের পক্ষ থেকে একে ‘সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান’ নাম দেয়া হয়।
পুলিশ স্থানীয়ভাবে ময়দান নামে খ্যাত স্বাধীনতা স্কয়ার ঘিরে ফেলে অব্যাহতভাবে স্টান গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাঁজোয়া যান আর জল কামান নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা এ সময় পেট্রোল বোমা ও হাতে তৈরি বিস্ফোরক দিয়ে জবাব দিতে শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি জলকামানে অগ্নিসংযোগ করে।
এরপর কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সরকারবিরোধীদের আস্তানা হিসাবে ব্যবহৃত একটি ভবন দূর থেকে জ্বলতে দেখা যায়। রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হয় ইউক্রেনের রাজধানী। বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে টায়ারে ও কাঠের জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা কয়েকজন পুলিশকে পাকড়াও করে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং কয়েকজন তাদেরকে কিল-ঘুষি মারছে।
সংঘর্ষের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা বলেন, তারা ইয়ানুকোভিচের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শেষ ঘাঁটি রক্ষায় অঙ্গিকারবদ্ধ।
জনৈক বিক্ষোভকারী পেট্রো অলিনিক বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন আমরা শেষ পর্যন্ত ময়দান রক্ষা করবো।’
গত নভেম্বরে ইইউ’র সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের পর প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইয়ানুকোভিচের পদত্যাগ দাবী করেন। পরে বিক্ষোভকারীদের দমাতে একটি আইন পাস করা হলে বিরোধীরা ফুঁসে ওঠেন। এরপর থেকে তারা কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ার দখল করে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন। বিক্ষোভকারীদের ভাষায়, আইনে মৌলিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন দল অবশ্য এই দাবী অস্বীকার করে বলেছে, ইউরোপীয় মানদন্ড মেনে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইউক্রেনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছে। অবশ্য রাশিয়া এ পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমা দেশগুলো ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে দায়ী করছে।
সোভিয়ত ইউনিয়ন ভেঙে স্বাধীন হওয়ার পর ইউক্রেনে ভয়াবহতম এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ পুলিশসহ কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে।
কিয়েভের মেট্রো ট্রেন মঙ্গলবার রাত থেকেই পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বাইরে থেকে যানবাহন আসতেও বাধা দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ সংঘর্ষের ঘটনায় বিরোধী নেতাদের দায়ী করে বলেছেন, সংঘাত নয় সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। সূত্র: এএফপি
[b]ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ
[/b]
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনে সংঘর্ষে নিহত ২৫
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বুধবারও বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহূর্মুহু পাথর ও মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করছে। সরকার বিরোধীদের হটাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশের ব্যাপক অভিযান শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।





