এ যেন এক পৃথ্বীরাজ-সংযুক্তার কাহিনি। প্রাণের পরোয়া না করে সংযুক্তাকে তাঁর প্রাসাদ থেকে অপহরণ করে ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন পৃথ্বীরাজ।
সোমবার সকালে চব্বিশ পরগনার জগদ্দল থানা এলাকার শ্যামনগরের বিবেকনগরে যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটল। যদিও এই ক্ষেত্রে স্ত্রীকে অপহরণ করতে রীতিমতো শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর হামলা চালাল জামাই।
শ্বশুরকে শাবল দিয়ে আঘাত করে, শাশুড়ির মাথায় রিভলভারের বাঁট দিয়ে মেরে তাঁদের জখম করে বাড়ি থেকে বউকে লুট করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেল গুণধর জামাই সুপ্রতিম আচার্য। তখন সবে সকাল হয়েছে।
অন্যান্য দিনের মতোই বিবেকনগরের বাসিন্দা ইলেকট্রিশিয়ান অসিত চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠেছেন। হঠাৎ বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল দুটি গাড়ি। ভিতরে জনা ১৫ যুবক। পুরো বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই অসিতবাবু দেখলেন, সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর জামাই সুপ্রতিম।
শ্বশুরকে জামাইয়ের সরাসরি প্রশ্ন, আমার বউ কোথায়? সাধারণত সকাল বেলা হঠাৎ জামাইকে দেখে অখুশি হওয়ার কথা নয় কোনো শ্বশুরের। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জামাইকে দেখামাত্রই তেড়েফুঁড়ে উঠলেন শ্বশুর অসিতবাবু। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কী দরকার? জিজ্ঞাসা করতেই জামাইয়ের পাল্টা জবাব, আমার বউকে বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছি।
চিৎকার করে জামাইকে তখনই চলে যেতে বলেন তিনি। কিন্তু বেপরোয়া জামাই তার ১৪ জন বন্ধুকে নিয়ে সোজা শ্বশুরবাড়ি ঢুকে যায়। স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার হাত ধরে টেনে সুপ্রতিম নিয়ে আসে বাইরে। মেয়ে লুট হচ্ছে, তা দেখামাত্রই জামাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন অসিতবাবু ও তাঁর স্ত্রী শিপ্রা চক্রবর্তী।
স্ত্রীকে পেতে মরিয়া সুপ্রতিম এবার পাল্টা আঘাত হানে শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে শ্বশুরের শরীরে। শাবল দিয়ে মারে তাঁর পায়ে। অসিতবাবু রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে গেলে জামাই সুপ্রতিম এবার হামলা চালায় তার শাশুড়ির ওপর।
তাঁর মাথায় রিভলভারের বাঁট দিয়ে আঘাত করে সে। এর পর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তোলে। বৃদ্ধা দম্পতির চিৎকারে ততক্ষণে হাজির হয়ে গিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
বাধা এড়াতে শূন্যে গুলি ছুড়ে স্ত্রীকে লুট করে প্রচণ্ড গতিতে গাড়ি নিয়ে নিজের বাড়ি হাবড়ার অশোকনগরের দিকে রওনা দেয় সুপ্রতিম। আহত অবস্থায় দম্পতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁরা জগদ্দল থানায় অপহরণকারী লুটেরা জামাই ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চার বছর আগে কাঠের ব্যবসায়ী সুপ্রতিম আচার্যর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার আলাপ। প্রিয়াঙ্কার মা-বাবার আপত্তি থাকায় ১৬ বছরের নাবালিকাকে বিয়ের পর অপহরণ করে তখনই বাড়িতে নিয়ে যায় সুপ্রতিম।
পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ২০১২ সালে ২৭ আগস্ট প্রিয়াঙ্কা সাবালিকা হওয়ার পর আবার তাকে অপহরণ করে সুপ্রতিম। কিন্তু চার মাস বাদে বাপের বাড়ি ফিরে আসেন প্রিয়াঙ্কা। এদিনের অপহরণের পিছনে প্রিয়াঙ্কার মদদ ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। সূত্র: এই সময়।
[b]ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]