মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলবিজয়ী অং সান সু চি বলেছেন, ‘রাখাইনের রোহিঙ্গাদের রক্ষা করা হচ্ছে। তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় রয়েছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সু চি এ কথা বলেন। খবর বিবিসি’র।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি এক বিবৃতিতে সু চি এ কথা বলেন। মিয়ানমার সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরপরই এই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হলো।

নতুন করে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মাঝে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার থেকে মিয়ানমার সফর করছেন।

সু চি আরো বলেন, মানবাধিকার বা গণতান্ত্রিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করার মানে কি হয় তা আমরা অন্যদের তুলনায় বেশ ভালোভাবেই জানি। আমাদের দেশের সব নাগরিকই তাদের অধিকার রক্ষার দাবিদার, এটা আমরা নিশ্চিত করেছি। এই অধিকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয় বরং সামাজিক এবং মানবিক প্রতিরক্ষারও দাবিদার তারা।

মিয়ামনারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে পড়ে গত ১০ দিনে এক লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছেড়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন শত শত রোহিঙ্গা মুসলমান। দাঙ্গা কবলিত রাখাইন থেকে হিন্দুরাও পালিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার থেকে গুলি-বোমা ছুড়ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, গত তিনদিন ধরে বাংলাদেশের সাথে সীমান্তের একাংশ জুড়ে ভূমি মাইন পেতে রাখছে মিয়ানমার, যাতে করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আর ফিরতে না পারে।

রাখাইনের অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম। তাদের ওপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন সুচি। সার্বিক বিষয় সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সুচি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সন্ত্রাসীদের সাহায্য করা হচ্ছে।’


সু চিকে এরদোগানের ফোন : রোহিঙ্গাদের নিয়ে পুরো মুসলিম বিশ্ব উদ্বিগ্ন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইপ এরদোগান মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচিকে ফোন করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ নিয়ে উদ্বেগ এবং নিন্দা জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চলছে।

আর মঙ্গলবার এরদোগান সরাসরি ফোন করেছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সূচিকে।

বার্তা সংস্থা এএফপি এবং রয়টার্স প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রদের উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, ফোনালাপে এরদোগান সু চির কাছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের 'মানবাধিকার লঙ্ঘন' নিয়ে উদ্বেগ এবং নিন্দা জানিয়েছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুচিকে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষের ওপর সন্ত্রাসীর তৎপরতার নিন্দা করছে তুরস্ক। মিয়ানমারে যে মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে সেটি উদ্বেগ এবং ক্ষোভের বিষয়।’

তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু জানিয়েছে, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এবং কথা বলতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলুকে বুধবার বাংলাদেশের পাঠাচ্ছেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তুরস্ক বিশেষ তৎপর হয়ে উঠেছে।

ঈদের ছুটির সময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই সঙ্কট নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এমনকি জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অন্তোনিও গুতেরেজের সাথেও কথা বলেছেন তিনি।

তুরস্কের নেতা বলেছেন এ মাসের শেষে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভায় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলবেন।

ওদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের মাঝেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ঘর পালানো রোহিঙ্গাদের ঢল অব্যাহত রয়েছে। জাতিসঙ্ঘ বলছে গত ১১ দিনে ১,২৩,০০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

এমএ