যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার ঘটনা তদন্তে এফবিআইয়ের সহায়তার প্রস্তাবকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করার সময় তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও অহিংস আদর্শকে চ্যালেঞ্জ করতে বিএনপি-জামায়াত জোট সহিংসতা চালাচ্ছে। তারা যানবাহনে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে। জোটের এই সহিংস কর্মকাণ্ডকে তিনি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেন। 

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা এতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্রসচিব ও মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রকৌশলী অভিজিৎ (৪৩) গত বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করে। তাঁর স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করে তারা।

অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁর বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায়। রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে অভিজিতের প্রতি মুক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ছাত্রীসম। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, দুষ্কৃতিকারীদের মূলোৎপাটনের জন্য ব্যবস্থা নিন।’ তিনি জানান, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর বাসায় গিয়েছিল। তারা বলেছে, সরকার চাইলে এফবিআই এ ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। কারণ, তারা সরকারের অনুমতি ছাড়া তো সরাসরি তদন্ত করতে পারে না।

অভিজিৎ রায়ের মরদেহ আজ পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে দান করা হয়েছে।

কেবি