দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রসিকিউটররা। তাদের দাবি, ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে নিয়ে দুর্নীতিতে প্রেসিডেন্টের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। প্রসিকিউটরদের দ্বারা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সে দেশের জনগণ। এমকি তারা ৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আলটিমটাম দিয়েছে।

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটরস অফিস এর প্রধান লি ইয়ং-রিয়েল বলেন, ''প্রেসিডেন্ট তার বন্ধু চোই সুন-সিল, অ্যান চুং-বুম ও জিঅং হো-সেঅংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কুকর্মের সহযোগী ছিলেন। এ ধরনের বেশকিছু প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর বিশেষ টিম তদন্তকাজ শেষ করেছে।'' প্রসিকিউটরস অফিস থেকে এমন ঘোষণাকে পার্কের রাজনৈতিক জীবনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

01836c40234449f89874f8f691699826_18

আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা 'চোই-গেট কেলেঙ্কারি' নামেও পরিচিত। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির আদলে এ নামকরণ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে পার্ক গিউন হাইয়ের পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার রাস্তায় নেমেছেন লক্ষাধিক মানুষ। শনিবার বিক্ষোভকারীরা হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে রাজপথে মিছিল করেন।

গণবিক্ষোভ পার্কের সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিলেও প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১৯৮০ এর দশকের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এটিকে সবচেয়ে বড় গণজমায়েত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহ বা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা করা যায়।

পার্ক গিউন হাইয়ের বন্ধু চোই সুন-সিল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের নামে ৬৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে স্যামসাং এবং হুন্দাই এর মতো কম্পানিও রয়েছে। ওই অর্থ সন্দেহভাজন একটি ফাউন্ডেশনের নামে নেওয়া হয়। পরে তিনি সেখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হন। পার্ক গিউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তিনি বন্ধুকে ওই অর্থ তুলতে সাহায্য করেন।

পার্ক গিউন হাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চোই সুন-সিলকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি চোই এর রাষ্ট্রীয় নথি ফাঁস করতে সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ প্রেসিডেন্টের বন্ধু চোই এর কোনো অফিসিয়াল পদবী নেই।


জেড