যুক্তরাজ্যে ডিটেনশন সেন্টারে এক বাঙালি যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বুকের ব্যথায় রুবেল আহমেদ (২৬) নামের এ যুবক কয়েক ঘণ্টা ধরে ছটপট করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো চিকিৎসা না দেয়ায় তার করুণ মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ডিটেশন সেন্টারের অন্যান্য বন্দিরা তুমুল বিক্ষোভ শুরু করলে রায়ট পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হোম অফিসের দাবি রুবেল আহমদ ‘আত্মহত্যা’ করেছে। কিন্তু কীভাবে আত্মহত্যা করেছে তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি হোম অফিস।
হোম অফিস এ মৃত্যুর ঘটনা পরিবারকে জানাতে বিলম্ব করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। রুবেল আহমদ মাত্র তিনদিন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিল। গত ৫ মাসে ডিটেনশন সেন্টারে এটা দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা।
ডিটেনশন সেন্টারকে ‘নাৎসিদের মৃত্যু কূপে’র সঙ্গে তুলনা করে সেন্টারগুলো বন্ধের দাবি উঠেছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে লিঙ্কনশায়ারের সুইনডার্বিস্থ মর্টন হল ডিটেনশন সেন্টারে রুবেল আহমেদের মৃত্যু হয়।
পরদিন ভোরে এ ঘটনা জানাজানি হলে অন্যান্য বন্দিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ৩০ জন বন্দি বিক্ষোভে যোগ দিলে স্টাফরা সেন্টার ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়। এদিন সকাল ১০ টার দিকে রায়ট পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
একই ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রুবেল আহমেদের বন্ধু আক্তার সোহেল (২৬) জানান, রাতের বেলা আমাদের রুমের দরজা তালা দেয়া থাকে। রুবেল বিকাল থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করে। সাহায্যের জন্য সে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে দরজার ঠোকাঠুকি করে। কিন্তু তাকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এমনটি তারা জানেন না।
রুবেলকে একজন অসাধারণ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে আক্তার সোহেল বলেন, রুবেলের মৃত্যুর ঘটনা সকলকে অবাক করেছে। আরো বেশ কয়েকজন বন্দি জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে রুবেল বুকের ব্যথা অনুভব করে।
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





