আদালতে আটকে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কার্ষকর হচ্ছে না ট্রাম্পের মুসলিমদের ওপর করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞ ।মার্কিন জেলা জজ ডেররিক ওয়াটসন তার রায়ে বলেছেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যে অজুহাত তুলেছে তার পক্ষে ‘প্রশ্নবিদ্ধ প্রমাণ’ পেশ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আদালতের এ নির্দেশকে ‘নজিরবিহীন বিচারিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর ৯০ দিনের এবং সব শরণার্থীর ওপর ১২০ দিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

কিন্তু ওই আদেশের বিরুদ্ধে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড, হাওয়াই এবং ওয়াশিংটনের আদালতে আর্জি জানানো হয়। হাওয়াই আদালতের পক্ষ থেকে আদেশটি আটকে দেয়া হলেও বাকি দুই আদালত এখনো কোনো রুল জারি করেনি। তবে এ ধরনের সরকারি নির্দেশ আটকে দেয়ার জন্য একটি আদালতের রায়ই যথেষ্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য এ নির্দেশ জারি করেছেন তিনি। কিন্তু সমালোচকরা এ আচরণকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানত মুসলমানদের টার্গেট করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জারি করা নির্বাহী আদেশ স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশ জারি করে প্রায় একই রকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। প্রথম আদেশে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠার পর সিয়াটেলের একজন বিচারকের হস্তক্ষেপে আদেশটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ওই সাত দেশের তালিকা থেকে শুধুই ইরাককে বাদ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
জেড