ভূ-স্বর্গ কাশ্মিরকে নিজের করে পাওয়ার আশা পাকিস্তানকে ত্যাগ করতে বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বক্তৃতায় পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।

সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, জম্মু ও কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছিন্ন অংশ এবং সবসময় তা-ই থাকবে। সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদ (পাকিস্তানের রাজধানী) যে ভূখণ্ড দখল করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে তা অবশ্যই পরিহার করতে হবে।’

কাশ্মির ইস্যুতে বহু বছর ধরে বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। সম্প্রতি তা চরম আকার ধারণ করেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে কাশ্মিরের ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশের উরি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেডের সদর দফতরে এক হামলায় ১৮ সেনা নিহত হয়। যা গত ১৫ বছরে কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাদের উপর সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই হামলার রেশ ধরেই বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের দাবি, উরিতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ এর সদস্য।

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাজি করাতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে ভারত। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তৃতায় বলেন, ‘পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে ভারতের আলোচনায় বসার মতো পরিস্থিতি এখন আর নেই।

ভারত বর্তমান পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলছে। নয়াদিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদ শান্তি স্থাপন করতে চায়। কিন্তু কাশ্মির সমস্যা সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।’

উরি হামলার পেছনের ‘প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে’ সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নওয়াজের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ।

রেডিও পাকিস্তানকে তিনি বলেন, ‘ভারতে যখনই কোনো হামলা হয়েছে, দিল্লি থেকে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই সব সময় পাকিস্তানের উপর এর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। উরির প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা উচিত।’

অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণে বলেছেন, ‘উরিতে নিহত ১৮ ভারতীয় সেনার আত্মত্যাগের কথা ভারত ভুলবে না এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী রফতানির কারণে তারা আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।’

 

এমএনজে