আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কয়েক দফা সাইবার যুদ্ধ ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই অবশেষে মুক্তি পেল বিতর্কিত চলচ্চিত্র 'দি ইন্টারভিউ'। তবে, ছবিটি শুধুমাত্র আমেরিকারই কিছু সিনেমা হল ও অনলাইনে মুক্তি পেল।

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে নির্মিত এই হাস্য-রসাত্মক (কমেডি) ছবিটি নির্মান করেছে 'সনি ফিল্মস'।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং ইলের মৃত্যুর পর কিম জং উন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হন।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে-মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিভিন্ন মহলে এমন সমালোচনার পটভূমিতেই শেষ পর্যন্ত মুক্তির স্বাদ পেল 'দি ইন্টারভিউ'।

বড় পর্দায় ছবিটি দেখার ব্যাপারে আমেরিকানদের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই দেশটির কয়েক'শ স্বাধীন সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পেল।

তবে দেশটির বড় সিনেমা হলগুলোর কর্তৃপক্ষ হুমকির মুখে ছবিটি তাদের হলে না চালানোর কথা এরই মধ্যে ঘোষণা করায় বিখ্যাত হলগুলোতে ছবিটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না দর্শকরা।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং দেশটির সেনা পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই ছবিটির মাধ্যমে তাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

ছবিটি ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক বেশ কিছু মাধ্যমেও দেখা যাবে। তবে, সবই আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ অর্থাৎ আমেরিকার বাইরে কোথাও ছবিটি দেখার সুযোগ আপাতত নেই।

সনি ফিল্মসের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস জানায়, আপাতত ছবিটি শুধুমাত্র আমেরিকাতেই দেখানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিজেদেরকে শান্তির অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেছে-এমন একটি হ্যাকার গ্রুপের নজিরবিহীন হ্যাকিংয়ের শিকার থেকে কোনমতে নিজেকে সামলিয়ে ওঠার পরই সনি পিকচার'স ছবিটির প্রথম দফা মুক্তির উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়।

গত সপ্তাহে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার (US Federal Bureau of Investigation-FBI) এক প্রতিবেদনে ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার প্রতি অঙ্গুলি প্রদর্শন করা হয়।

তবে, এই হ্যাকিংয়ের সাথে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু, এই কাজকে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আমেরিকার চরম বৈরী এই দেশের কর্তা ব্যক্তিরা। (সূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড)

কেবি