প্রথা ও রীতি ভেঙ্গে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার রাজপথে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয়বারের মত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার জন্য এই প্রথাবিরোধী পন্থা বেছে নিয়েছেন তিনি।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য রেড রোডে ফোর্ট উইলিয়ামের গেটের সামনে নেতাজী মূর্তির দিকে মুখ করে তৈরি করা হয়েছে তিনটি মঞ্চ। মাঝখানের মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথবাক্য পাঠ করাবেন। মূল মঞ্চের পাশের একটি মঞ্চে ৩০ জন ভিভিআইপি'র বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যপাশের মঞ্চে বসবেন নতুন মন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নেবেন তারা।

বর্ণময় এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশ-বিদেশের বহু অতিথি। থাকবেন ভারত সরকারের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রীসহ রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা। মমতা ব্যক্তিগতভাবে দিল্লি, বিহার, ওড়িশা ও তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জয়ললিতা হাজির থাকতে না পারলেও অরবিন্দ কেজরিওয়াল, নীতিশকুমার, নবীন পট্টনায়েকেরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে হাজির না থাকতে পারলেও তার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ ছাড়া ভারতের নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারও উপস্থিত থাকবেন।

মঞ্চে ভিভিআইপি অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত থাকার কথা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর। সোনিয়া গান্ধী এলে তিনিও এ মঞ্চেই বসবেন। সেখানে থাকবেন মোদি সরকারের মন্ত্রীরাও। আর মঞ্চ আলোকিত করে হাজির থাকার কথা কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও শাহরুখ খানের। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে অসুস্থতার কারণে হাজির থাকতে না পারলেও তার প্রতিনিধি হয়ে আসবেন স্ত্রী যোগিতাবালি ও পুত্র মহাক্ষ।

মঞ্চের সামনে অতিথিদের জন্য আলাদা করে সামিয়ানা টাঙিয়ে ২০ হাজার জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন বলিউড ও টলিউডের একঝাঁক তারকা। মমতার ইচ্ছে অনুযায়ী জনগণের এই অনুষ্ঠানে আরো লাখ খানেক মানুষ যাতে উপস্থিত থেকে ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান দেখতে পারেন সেজন্য অনুষ্ঠান স্থলের আশেপাশে ৮টি জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার হবে ড্রোন থেকেও। নজিরবিহীনভাবে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য রেড রোড পাঁচদিন আগে থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠান দেখতে আসা অতিথি ও সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা এবার যেহেতু রেড রোডেই হচ্ছে, সে কারণেই পাঁচদিন ধরে বন্ধ রাখতে হচ্ছে পুরো রাস্তা।

এমআর