ইউক্রেন সীমান্তে জরুরিভিত্তিতে সামরিক মহড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার তিনি সেনাবাহিনীকে এ নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই শুইগো বুধবার পুতিনের এ নির্দেশের কথা জানিয়েছেন। রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক মহড়ার নির্দেশ দেন পুতিন। এর মাধ্যমে রাশিয়া তার সামরিক শক্তির জানান দিতে চায়।
রাশিয়ার ইউক্রেন সীমান্তটি এমন এক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে রয়েছে ন্যাটোভূক্ত বেশ কয়েকটি দেশ। আর ন্যাটোকে রাশিয়া তার প্রতিপক্ষ বলে মনে করে। কৌশলগত এমন একটি অঞ্চলেই সামরিক মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। এদিকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে মুখোমুখি অব্স্থানে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্ব। মহড়াটি আগামী ৩ মার্চ শেষ হবে বলে জানা গেছে।  
তবে, রাশিয়া সমর্থিত ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানোকোভিচের পদত্যাগ নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি পুতিন। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে ইউক্রেনে। কিন্তু কয়েক মাসের আন্দোলনের পরও প্রেসিডেন্ট ইয়ানোকোভিচ রাশিয়ার সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদারের নীতিতে অটল থাকেন।
প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে ইউক্রেনজুড়ে বিক্ষোভ ধূমায়িত হতে থাকে গত কিছুদিন ধরে। এক পর্যায়ে গত সপ্তাহে এসে তা সহিংস রূপ ধারণ করে। সহিংসতায় বেশ কিছু লোক নিহত হন। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ইয়ানোকোভিচ পদত্যাগে বাধ্য হন। ইয়ানোকোভিচ অবশ্য দাবি করেছেন তিনি পদত্যাগ করেননি, তিনিই এখনো দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত ইউক্রেনে কোন ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়া থেকে রাশিয়াকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় পশ্চিমা শক্তিগুলো। কিন্তু রাশিয়া তার পরিকল্পনায় থাকা ইউরেশিয়ান ইউনিয়নে ইউক্রেনকে যেকোন মূল্যে টানতে চায়। উল্লেখ্য, ইউরেশিয়ান ইউনিয়ন হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতোই একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট। এর সদস্য দেশগুলো হবে পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো। সূত্র: রয়টার্স
[b]ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]