অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার আশ-পাশের এলাকায় বসবাসকারী দখলদার ইহুদীদের ৭৫ শতাংশই তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রকেট হামলার ভয়েই এভাবে দখলদাররা পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইসরাইলের এশকল শহরের জেলা কাউন্সিলের প্রধান হাইম ইয়েলিন বলেন, গাজার আশে-পাশের এলাকা থেকে যেই ৭৫ শতাংশ ইহুদী তাদের বসতি ছেড়েছেন তারা উত্তরের দিকে চলে গেছেন, খবর প্রেসটিভি।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সামরিক বিষয়ক মন্ত্রী মোসে ইয়ালুন যখন ঘোষণা দিলেন-গাজার আশেপাশে বসবাসকারী ২ লাখ ৫০ হাজার ইসরাইলির নিরাপত্তার জন্য তেলআবিব নতুন নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলবে এবং মিশর সীমান্ত পর্যন্ত এই বেষ্টনী বিস্তৃত করা হবে, তখনই এভাবে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালানোর হিড়িক পড়ে যায়।
এশকল শহরের জেলা কাউন্সিলের প্রধান হাইম ইয়েলিন আরও বলেন, ইহুদীরা কোনক্রমেই রকেট হামলার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে রাজি নন। এমনকি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সামরিক মন্ত্রী ইয়ালুনের আশ্বাসে কোন সুফল মিলছে না। গাজায় তথাকথিত ভূগর্ভস্থ গুহা বা টানেল সমস্যার সমাধানের কথা বলে বার বার আশ্বাস দেয়ার পরও তাদের আশ্বাসে কান দিচ্ছেন না পালিয়ে বেড়ানো ভীতসন্ত্রস্ত ইহুদীরা।
এক জরিপে দেখা গেছে ১ লাখ ২৫ হাজার দখলদার ইহুদী, যারা গাজার আশপাশের ৫৭টি কমিউনিটিতে বসবাস করতেন, তারা সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন ছেড়ে আসা বাড়ি-ঘরে আর ফিরবেন না। ওই ৫৭টি কমিউনিতে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার দখলদার ইহুদীর বসবাস।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সর্বত্র ব্যাপকহারে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে যায়নবাদী ইসরাইলি সেনারা। এতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮৬০ ফিলিস্তিনি শহীদ হন এবং আহত হন আরও সাড়ে ৯ হাজার সাধারণ মানুষ।
ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা যুদ্ধে নামে। এতে ৬৪ ইহুদীবাদী সেনা নিহত হয়েছেন বলে তেলআবিব স্বীকার করেছে। তবে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জদিন আল কাসসাম ব্রিগেডের দাবি তাদের হাতে অন্তত ১৫০ ইহুদী খতম হয়েছে।
ঢাকা, ৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





