যেকোন ঘটনায়, যেকোন ব্যক্তির বিপক্ষে এবং যেকোন পরিস্থিতিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধি দলের নবনিযুক্ত প্রধান মায়াউডন পিয়ারি আজ (বুধবার) এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।
পিয়ারির নতুন দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বিকেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, কিন্তু জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পরপরই ইইউ কেন মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিল, তাহলে কী এই জোট বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে-সাংবাদিকদের এমন একাধিক প্রশ্নের জবাবে পিয়ারি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যখনই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে কোন মৃতুদণ্ড সংক্রান্ত সংবাদ পৌঁছায়, তা যে দেশেই সংগঠিত হোক না কেন, এই আন্তর্জাতিক জোট তার বিপক্ষে বিবৃতি দিয়ে থাকে। এর অর্থ এটা নয় যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন দেশের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশে বিগত ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি বলে ইউরোপীয় এই জোট যে বিবৃতি দিয়েছিল সেই অবস্থান এখন বহাল আছে কীনা-এমন এক প্রশ্নের জবাবে পিয়ারি বলেন, সেই অবস্থান এখন বহাল আছে।
তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহনে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার অবস্থানে অটল আছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সাথে এ ব্যাপারে ইইউ কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান প্রতিনিধি দলের প্রধান পিয়ারি।
২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান সরকার নির্ধারণ করেছে তার প্রশংসা করেন পিয়ারি।
তবে, যেকোন উন্নয়নের জন্য সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশে অনেক এনজিও কাজ করে-এটাকে ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, সব রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মে এনজিওকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশ বা জিএসপি সুবিধা ফেরত পেতে কাজের পরিবেশের উন্নয়নসহ শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তা পূরণ করতে হবে বলেও জানান পিয়ারি।
উল্লেখ্য, মায়াউডন পিয়ারি এর আগে গত ২০১১-২০১৪ পর্যন্ত পাকিস্তানে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের ডেপুটি হেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রধান উইলিয়াম হান্নার স্থলাভিশিক্ত হয়েছেন।
কেবি





