পাকিস্তান অধ্যুষিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার মাসুদ খান অভিযোগ করে বলেন, নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি ‘মুক্ত গণহত্যা’ চালাচ্ছে। সবাইকে সতর্ক করে বলেন, কাশ্মীরে লোকদের তুলে নিয়ে হত্যা করে অচিহ্নিত কবরে দাফন করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ খান এ অভিযোগ করেন।

ভারতীয় নৃশংসতার প্রবলতার একতরফা রিপোর্ট করার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে মাসুদ খান বলেন, ‘কাশ্মীরের জনগণের দুর্দশার বিষয়ে সাধারণত উপত্যকায় কী ঘটছে তার একতরফা বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ ভারত সেসব রিপোর্টারদেরই অনুমোদন দিচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে একতরফা রিপোর্টিং না করার জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ।’

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে মাসুদ খানকে উদ্ধৃত করে জানায়, ‘নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। প্রায় ছয় হাজার মানুষকে তুলে নিয়ে জেল হাজতে ভরা করা হয়েছে এবং কোনো কারণ না দেখিয়েই তাদের দুই বছরের জন্য আটকে রাখা হবে।

এগুলোই অঞ্চলটিতে গণহত্যার মূল সূচক। গণমাধ্যম বন্ধ থাকার কারণে এসব অপরাধের খবর উপত্যকা থেকে বের হচ্ছে না।’

‘দীর্ঘ ৫০ বছর পর কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের (ইউএনএসসি) বৈঠক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে, কাশ্মীরের পক্ষে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ নয়; বরং এটি প্রথম পদক্ষেপ এবং আমাদের কাশ্মীরি ভাইদের জন্য আমাদের দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে,’ বলেন মাসুদ খান।

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবিক সংকট বেড়ে উঠছে এবং সেখানকার লোকেরা খাদ্য সামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে বলে মাসুদ খান সতর্ক করেন।

‘পরবর্তী পদক্ষেপটি ইউএনএসসির পক্ষে একটি ত্রি-দফা এজেন্ডা নিয়ে কাজ করা। এর মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরে গণহত্যার অবসান, কাশ্মীরকে নিজের সাথে একীভূত করার ভারতের অবৈধ প্রয়াসকে পাল্টানো এবং কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়া।


এএস