কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকারকে প্রত্যাহার করতে সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে কাতারস্থ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাতার শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম প্রধান বলেন, কাতারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসুদ মাহমুদ খন্দকারের দূর্নীতি, অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতায় কাতার প্রবাসীরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।
এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি।
তাই আগামী সাতদিনের মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করা না হলে তারা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে জানান। এতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে বলেও জানান।
শফিকুল ইসলাম বলেন, সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার কাতারে বিএনপি নেতাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হয়েছেন। তিনি ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী ‘পলাতক’ বিএনপি নেতা মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ এর সাথে রাষ্ট্রদূত হয়েও এক সাথে কাতারে বিএনপি নেতা নুরুল মোস্তফা ও বিএনপির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সমন্বয়ক সালাউদ্দিনের বাসায় ভূড়িভোজে যোগ দেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দন্ডিত মীর কাশেম আলী যখন কাতার সফর করেছেন এবং জামায়াত নেতাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন ১৫ দিন। তখন রাষ্ট্রদূতের কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাকে আটক করে দেশে পাঠানোর দাবি জানালেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের শফিকুল ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গড়িমসির কারণে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি ধামাচাপার দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।
লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম প্রধান অভিযোগ করে বলেন, কাতারে বাংলাদেশ স্কুল নামে পরিচিত মাশহারুল হক স্কুল এন্ড কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা ৩ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী দুই কোটি টাকা অনুদান দেন।
কিন্তু বিনা টেন্ডারে সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার নিজের লোকদের কাজ দিয়ে বিপুল টাকা লুটপাট করেছেন। সরকারের রাজস্ব খাতের টাকায় কেনা দেড় কোটি টাকার গাড়ি ব্যক্তিগত সফরে সৌদি আরবে গিয়ে দূর্ঘটনায় পড়েন। তারপর ওই গাড়িটির আর হদিস মেলে নি।
কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি আরও জানান, সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার বিএনপি নেতাদের প্রধান পৃষ্টপোষকে পরিণত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ও দিচ্ছেন ওই রাষ্ট্রদূত।
দূর্নীতির অভিযোগও আনা হয় মাসুদের বিরুদ্ধে। এসময় শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ স্কুলে জনবল নিয়োগের নামেও ব্যপক দূর্নীতি করেছেন মাসুদ। ভুয়া নিয়োগ বাণিজ্য করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। বিভিন্ন দিবস পালন ও ভিআইপিদের সংবর্ধনার নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ মাসুদের নিয়মিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, দূতবাসের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে গত বছর অডিট করতে যায় একটি তদন্ত দল। কিন্তু ওই তদন্তের দলের প্রধানকে অবৈধ সুবিধা দিয়ে সব অনিয়ম ধামাচাপা দেন মাসুদ।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কাতার প্রবাসীরা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) করতে গিয়ে দূতাববাসের নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই এমআরপি নিয়ে দীর্ঘসময় আর বিভিন্ন বিড়ম্বনার কারণে প্রবাসীরা আতঙ্কে আছেন।
আর মাত্র ছয় মাস পর হাতে লেখা পাসপোর্ট অচল হয়ে যাবে। এখনো প্রায় দুই লাখ প্রবাসী এমআরপির অপেক্ষায় আছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্য মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট হাতে না পেলে প্রশাসনিক জটিলতাসহ পুলিশি হয়রানির মুখে পড়তে হবে।
মাসুদের গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের ঘটনা সবার জানা। শ্রমিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকলেও তিনি শ্রমিক নির্যাতনকারী হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, কাতার শাখার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ পাটোয়ারি বাবুল, মনোরঞ্জন সাহা সভাপতি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ কাতার শাখা, শাহজালাল,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ





